
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটের ঘোষিত ফলে সংশোধনী এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন হিসাবে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—দুই ধরনের ভোটই আগের ঘোষণার তুলনায় কমেছে। পাশাপাশি মোট প্রদত্ত ভোট কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে প্রকাশিত এক অতিরিক্ত গেজেটে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, কমিশনের আদেশক্রমে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে জনসম্মতি যাচাইয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছিল।
গেজেটে জানানো হয়, প্রথম গেজেটের হিসেব অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন, ‘না’ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন। ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল সাত কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭ জন। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬ জন।
সংশোধিত গেজেটের হিসাব অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ জন, ‘না’ ভোটের সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১ জন। হ্যাঁ এবং না ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭ জন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬ জন। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১ জন।
সংশোধিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগের তুলনায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে। অন্যদিকে ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। তবে বৈধ ভোট কমলেও বাতিল করা ভোট সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে।
সার্বিকভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে।
এই সংশোধনীর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলেও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কমিশনের আদেশক্রমেই এই সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক বৈধতা ও জনসম্মতি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















