ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
আগুনে সর্বস্ব হারাল দিনমজুর হাসানের পরিবার, খোলা আকাশের নিচে ৪ জন মতলব উত্তরে ১৬ হাজার টাকার জালনোটসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার মুন্সীগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা মাগুরায় ৭০ কোটি টাকার আইটি পার্ক, আট বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ এশিয়ার জন্য তেলের দাম ছয় বছরের সর্বনিম্নে নামাল সৌদি চট্টগ্রাম রেঞ্জে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৭৬৪ রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে শিক্ষার্থীদের অতিক্ষমতা চলতে পারে না: টিআইবি অর্থ পাচার ও বেনামি সম্পত্তির অভিযোগ অস্বীকার করলেন রাকুল প্রীত সিং সঠিক নীতি ও প্রস্তুতিতে অনিশ্চয়তা মোকাবিলা সম্ভব: মাহদী আমিন ফোনে পরিচয়ের পর দেখা করতে গিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

রাবিতে হামলার আগে অস্ত্র নিয়ে অবস্থানের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৬:৪২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৩৮ Time View

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার আগে ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থানের পরও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে হামলার সময়ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। 

রোববার বিকেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর অবস্থানের কথা জানা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, তাদের কয়েকজনের হাতে বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন সামগ্রী দেখা যায়। এ সময় রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, হামলাকারীদের হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত সাংবাদিকদের পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কয়েকজন নেতার নাম প্রত্যক্ষদর্শীরা উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে সহসভাপতি এম আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমের নাম রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে ছিলেন। পরে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ফোন করা হলেও পুলিশ সদস্যরা সরে যান।

হামলার পর সাংবাদিকেরা জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার আশ্বাস দেওয়া হলে রাত সোয়া ১টার দিকে তারা কর্মসূচি থেকে সরে যান।

তবে পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল প্রশাসনের মাধ্যমে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করে। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়। পরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-রেজিস্ট্রার বাদী হয়ে মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এদিকে হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদও দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আগুনে সর্বস্ব হারাল দিনমজুর হাসানের পরিবার, খোলা আকাশের নিচে ৪ জন

রাবিতে হামলার আগে অস্ত্র নিয়ে অবস্থানের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:৪২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার আগে ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থানের পরও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে হামলার সময়ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। 

রোববার বিকেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর অবস্থানের কথা জানা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, তাদের কয়েকজনের হাতে বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন সামগ্রী দেখা যায়। এ সময় রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, হামলাকারীদের হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত সাংবাদিকদের পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কয়েকজন নেতার নাম প্রত্যক্ষদর্শীরা উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে সহসভাপতি এম আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমের নাম রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে ছিলেন। পরে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ফোন করা হলেও পুলিশ সদস্যরা সরে যান।

হামলার পর সাংবাদিকেরা জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার আশ্বাস দেওয়া হলে রাত সোয়া ১টার দিকে তারা কর্মসূচি থেকে সরে যান।

তবে পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল প্রশাসনের মাধ্যমে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করে। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়। পরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-রেজিস্ট্রার বাদী হয়ে মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এদিকে হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদও দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।