ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গোপালগঞ্জে ইয়াবা-গাঁজা ও ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকাসহ আটক ১ ডামুড্যায় গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হঠাৎ কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেলের মিরপুর-১১ স্টেশন গার্মেন্টস শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩৩ নগরকান্দায় ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে মরণফাঁদ, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ইরানযুদ্ধের প্রভাবে চাপে মার্কিন নৌবহর, মেরামতে লাগবে কয়েক বছর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক উত্তেজনা বাড়ালে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

ওষুধ গবেষণায় অবদান, রসায়নে নোবেল পেলেন কাগান ও সোয়াই

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৬৮ Time View

২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন হেনরি বি. কাগান ও কেনসো সোয়াই

২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের বিজ্ঞানী হেনরি বি. কাগান ও জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই। অসমমিত জৈব সংশ্লেষণে ‘নন-লিনিয়ার ইফেক্ট’ ও ‘অটোক্যাটালাইসিস’ আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বুধবার পুরস্কার ঘোষণা করে। নোবেল কমিটির মতে, দুই বিজ্ঞানীর গবেষণা রাসায়নিক অণুর দুটি দর্পণ-প্রতিবিম্বের মধ্যে নির্দিষ্ট একটি রূপ তৈরি ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনেছে। বিশেষ করে ওষুধ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক বিক্রিয়া নকশায় তাদের আবিষ্কারের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।

শত বছরের রাসায়নিক রহস্যের সমাধান

অনেক রাসায়নিক অণু দুটি ভিন্ন রূপে থাকতে পারে, যেগুলো দেখতে পরস্পরের দর্পণ প্রতিবিম্বের মতো। এ ধরনের অণুকে বলা হয় কাইরাল অণু। জীবজগতে সাধারণত এসব অণুর নির্দিষ্ট একটি রূপই বেশি দেখা যায়। কীভাবে জীবনে এই ‘হোমোকাইরালিটি’ তৈরি হলো, তা দীর্ঘদিন ধরে রসায়নবিদদের কাছে একটি বড় প্রশ্ন ছিল।

হেনরি কাগান ১৯৮৬ সালে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট দর্পণ-রূপের আধিক্য তৈরির গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি দেখান। পরে কেনসো সোয়াই অটোক্যাটালাইসিস নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে আরও বড় অগ্রগতি আনেন। ২০০৩ সালে সোয়াই এমন একটি বিক্রিয়া প্রদর্শন করেন, যেখানে দুটি সম্ভাব্য দর্পণ-রূপের মধ্যে একটিই তৈরি হয়েছিল।

নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, কাগান ও সোয়াইয়ের গবেষণা রসায়নবিদদের এমন বিক্রিয়া নকশায় সহায়তা করেছে, যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের অণু আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে তৈরি করা সম্ভব। এ কারণে তাদের কাজ ওষুধ তৈরির গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিজয়ীদের পরিচয়

হেনরি বি. কাগান ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদ-এর সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের সঙ্গে কাজ করেছেন।

২০২৫ সালে রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর এম. ইয়াঘি। ‘মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস’ উন্নয়নের জন্য তাদের পুরস্কৃত করা হয়। এই বিশেষ ধরনের আণবিক কাঠামোর সাহায্যে মরুভূমির বাতাস থেকে পানি সংগ্রহ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ধারণ, বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণসহ বিভিন্ন কাজের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নোবেল পুরস্কারের অর্থ ও পরবর্তী ঘোষণা

২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা, যা একাধিক বিজয়ী থাকলে তাদের মধ্যে ভাগ হয়। পুরস্কারের সঙ্গে ডিপ্লোমা ও স্বর্ণপদকও দেওয়া হয়।

চলতি নোবেল সপ্তাহে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের পর রসায়নে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হবে। অর্থনীতির পুরস্কারও পরে ঘোষণা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে ইয়াবা-গাঁজা ও ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকাসহ আটক ১

ওষুধ গবেষণায় অবদান, রসায়নে নোবেল পেলেন কাগান ও সোয়াই

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের বিজ্ঞানী হেনরি বি. কাগান ও জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই। অসমমিত জৈব সংশ্লেষণে ‘নন-লিনিয়ার ইফেক্ট’ ও ‘অটোক্যাটালাইসিস’ আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বুধবার পুরস্কার ঘোষণা করে। নোবেল কমিটির মতে, দুই বিজ্ঞানীর গবেষণা রাসায়নিক অণুর দুটি দর্পণ-প্রতিবিম্বের মধ্যে নির্দিষ্ট একটি রূপ তৈরি ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনেছে। বিশেষ করে ওষুধ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক বিক্রিয়া নকশায় তাদের আবিষ্কারের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।

শত বছরের রাসায়নিক রহস্যের সমাধান

অনেক রাসায়নিক অণু দুটি ভিন্ন রূপে থাকতে পারে, যেগুলো দেখতে পরস্পরের দর্পণ প্রতিবিম্বের মতো। এ ধরনের অণুকে বলা হয় কাইরাল অণু। জীবজগতে সাধারণত এসব অণুর নির্দিষ্ট একটি রূপই বেশি দেখা যায়। কীভাবে জীবনে এই ‘হোমোকাইরালিটি’ তৈরি হলো, তা দীর্ঘদিন ধরে রসায়নবিদদের কাছে একটি বড় প্রশ্ন ছিল।

হেনরি কাগান ১৯৮৬ সালে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট দর্পণ-রূপের আধিক্য তৈরির গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি দেখান। পরে কেনসো সোয়াই অটোক্যাটালাইসিস নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে আরও বড় অগ্রগতি আনেন। ২০০৩ সালে সোয়াই এমন একটি বিক্রিয়া প্রদর্শন করেন, যেখানে দুটি সম্ভাব্য দর্পণ-রূপের মধ্যে একটিই তৈরি হয়েছিল।

নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, কাগান ও সোয়াইয়ের গবেষণা রসায়নবিদদের এমন বিক্রিয়া নকশায় সহায়তা করেছে, যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের অণু আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে তৈরি করা সম্ভব। এ কারণে তাদের কাজ ওষুধ তৈরির গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিজয়ীদের পরিচয়

হেনরি বি. কাগান ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদ-এর সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের সঙ্গে কাজ করেছেন।

২০২৫ সালে রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর এম. ইয়াঘি। ‘মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস’ উন্নয়নের জন্য তাদের পুরস্কৃত করা হয়। এই বিশেষ ধরনের আণবিক কাঠামোর সাহায্যে মরুভূমির বাতাস থেকে পানি সংগ্রহ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ধারণ, বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণসহ বিভিন্ন কাজের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নোবেল পুরস্কারের অর্থ ও পরবর্তী ঘোষণা

২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা, যা একাধিক বিজয়ী থাকলে তাদের মধ্যে ভাগ হয়। পুরস্কারের সঙ্গে ডিপ্লোমা ও স্বর্ণপদকও দেওয়া হয়।

চলতি নোবেল সপ্তাহে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের পর রসায়নে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হবে। অর্থনীতির পুরস্কারও পরে ঘোষণা করা হবে।