
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব। শিক্ষার্থীকে নেকাব খুলতে, পোশাক পরিবর্তন করতে কিংবা ক্লাস ছেড়ে যেতে বলেননি বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন এই শিক্ষক।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তাসনিম সিরাজ মাহবুব। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পোশাকের বিরোধিতা করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। মুখমণ্ডল ঢাকা থাকায় শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকর যোগাযোগের অসুবিধার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেছিলেন।
শ্রেণিকক্ষের ঘটনা নিয়ে শিক্ষিকার বক্তব্য
তাসনিম সিরাজ মাহবুবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর ইংরেজি বিভাগের একটি ক্লাসে চোখসহ পুরো মুখমণ্ডল ঢাকা অবস্থায় এক ছাত্রীকে দেখতে পান তিনি। শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে না পারা এবং চোখে চোখ রেখে যোগাযোগের অসুবিধার কারণে পাঠদানের সময় অস্বস্তি হচ্ছিল বলে জানান তিনি।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ধর্মীয় পর্দা, শালীন পোশাক ও এ-সংক্রান্ত ধর্মীয় ব্যাখ্যার প্রসঙ্গ তোলেন বলে উল্লেখ করেন এই শিক্ষক।
তিনি আরও জানান, পরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জানতে পারেন, তাঁর কথায় ওই ছাত্রী কষ্ট পেয়ে ক্লাস ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর সহপাঠীদের মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দুঃখ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে তিনবার খবর পাঠানো এবং করিডরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করেও সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তাসনিম সিরাজ।
বিভাগীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে মর্মাহত শিক্ষক
বিভাগীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাসনিম সিরাজ মাহবুব বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বক্তব্য গ্রহণের আগেই ইংরেজি বিভাগের সব কোর্স অন্য শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ চান। একই সঙ্গে সভার বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষভাবে ঘটনাটি যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
হুমকি পাওয়ার অভিযোগ
লিখিত বক্তব্যে এই শিক্ষক জানান, ঘটনার পর তিনি বেনামি ফোন, ইমেইল, আপত্তিকর বার্তা ও হুমকি পেয়েছেন। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীসহ সবার মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তাসনিম সিরাজ মাহবুবের মতে, পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তার প্রতি সম্মান রেখে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার মাধ্যমে তা করা উচিত।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর কোর্স পুনর্বণ্টন
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি ক্লাসে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা মৌলবাদী এবং ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ ওঠে তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে।
পরে শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর বিভাগের জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় তাঁর সব কোর্স অন্য শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এই শিক্ষক।
অধিকার ডেস্কঃ 























