ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্যেই প্রথম দিন শেষ, সংসদ অধিবেশন রোববার পর্যন্ত মুলতবি

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

তীব্র প্রতিবাদ, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে স্পিকার অধিবেশন আগামী রোববার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ সমাপ্ত হওয়ার পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশন আগামী রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করেন।

এর আগে অধিবেশনের শুরুতেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংসদের বিধি অনুযায়ী স্পিকার যখন রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান, তখন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নিজেদের আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিবাদ নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’—এমন স্লোগান লেখা দেখা যায়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পিকার বারবার সদস্যদের আসনে বসার আহ্বান জানান। কিন্তু বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।

বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন ত্যাগ করলেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার নির্ধারিত লিখিত ভাষণ পাঠ অব্যাহত রাখেন। ভাষণে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিপুল সমর্থনে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার দল বিএনপি এবং তাদের মিত্রদের অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রে শক্তিশালী বিরোধী দলের গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায়।

অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি রাষ্ট্রপতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, জুলাইয়ের ঘটনার সময় রাষ্ট্রপতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার ভাষায়, সেই প্রেক্ষাপটে এই সংসদে ভাষণ দেওয়ার নৈতিক অধিকার রাষ্ট্রপতির নেই।

বিরোধী দলের আরও কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলনে যারা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হলে স্পিকার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। আগামী রোববার সকাল ১১টায় সংসদের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্যেই প্রথম দিন শেষ, সংসদ অধিবেশন রোববার পর্যন্ত মুলতবি

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

তীব্র প্রতিবাদ, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে স্পিকার অধিবেশন আগামী রোববার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ সমাপ্ত হওয়ার পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশন আগামী রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করেন।

এর আগে অধিবেশনের শুরুতেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংসদের বিধি অনুযায়ী স্পিকার যখন রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান, তখন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নিজেদের আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিবাদ নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’—এমন স্লোগান লেখা দেখা যায়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পিকার বারবার সদস্যদের আসনে বসার আহ্বান জানান। কিন্তু বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।

বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন ত্যাগ করলেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার নির্ধারিত লিখিত ভাষণ পাঠ অব্যাহত রাখেন। ভাষণে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিপুল সমর্থনে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার দল বিএনপি এবং তাদের মিত্রদের অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রে শক্তিশালী বিরোধী দলের গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায়।

অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি রাষ্ট্রপতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, জুলাইয়ের ঘটনার সময় রাষ্ট্রপতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার ভাষায়, সেই প্রেক্ষাপটে এই সংসদে ভাষণ দেওয়ার নৈতিক অধিকার রাষ্ট্রপতির নেই।

বিরোধী দলের আরও কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলনে যারা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হলে স্পিকার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। আগামী রোববার সকাল ১১টায় সংসদের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।