
গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না করায় সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেছেন, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটের রেজিস্টারি মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
মামুনুল হক বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করা হলে রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার পথ তৈরি হবে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ব্যক্তি বা দলের অনুগত না হয়ে জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে—এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্বের ভারসাম্য, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, নিরপেক্ষ প্রশাসন এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনব্যবস্থা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে।
মামুনুল হকের ভাষ্য, জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করে কোনো সরকার দীর্ঘমেয়াদে জনসমর্থন ধরে রাখতে পারবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সরকার রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জ্বালানি সংকটে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির সংকট শিল্পকারখানা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান মামুনুল হক।
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধের আহ্বান
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং ন্যায্য দাবি আদায়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যারা
সিলেট মহানগর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা এমরান আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল গাফফার।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহিনূর পাশা চৌধুরী, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় অভিভাবক পরিষদের সদস্য শায়েখ মাওলানা আব্দুস সোবহান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন ও মাওলানা আব্দুল আজিজ, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা সামীউর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু ও মাওলানা আতাউর রহমান।
সিলেট মহানগর শাখার সহসভাপতি প্রিন্সিপাল পীর মাওলানা আব্দুল জব্বার, মাওলানা মুহিবুর রহমান ও মুফতি আলী আহমদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
অধিকার ডেস্কঃ 






















