ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

‘কিলার চুপ্পু’ স্লোগানে বিরোধীদের সংসদ ওয়াকআউট

প্ল্যাকার্ড হাতে সংসদে জামায়াতে ইসলামের সংসদ সদস্যরা।সংগৃহীত ছবি

রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই ওয়াক আউট করেছেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোটের ৭৭ সংসদ সদস্য।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা ৩৩ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) ঘোষণা করেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কিছুক্ষণের মধ্যে সংসদে প্রবেশ করবেন। ঘোষণা দেওয়া মাত্র বিরোধী এমপিরা দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং রাষ্ট্রপতিকে ‘জুলাই গণহত্যাকারী’ ও ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে পোস্টার প্রদর্শন করেন।

মুখ্য স্পিকার ও সরকারি দলের এমপিরা রাষ্ট্রপতিকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর মধ্যেই বিরোধী দলের এমপিরা সংসদীয় প্রথা উপেক্ষা করে প্রতিবাদ শুরু করেন। পোস্টারে লেখা ছিল, “জুলাই গাদ্দার”, “গো ব্যাক কিলার চুপ্পু”, “কিলার চুপ্পুর বিচার চাই” ইত্যাদি। এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও পোস্টার হাতে প্রতিবাদে যোগ দেন। পুরো ঘটনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ আসন থেকে অবলোকন করেন।

জাতীয় সংগীতের সময় বিরোধী এমপিরা কিছুক্ষণের জন্য বিরতি দেন এবং নীরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করলে জামায়াত জোটের এমপিরা আসন ছেড়ে প্রবেশ পথে নেমে যান। স্লোগান হট্টগোলের কারণে রাষ্ট্রপতির ভাষণ পুরোপুরি শোনা যাচ্ছিল না।

রাষ্ট্রপতিকে ‘জুলাই গণহত্যাকারী’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত জোটের এমপিরা প্রতিবাদ শুরু করেন।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেন, “ফ্যাসিবাদ ও গণতন্ত্র এক সাথে চলে না।” এছাড়া হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল হান্নান মাসউদ, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও সমর্থন জানিয়ে একই ধরনের স্লোগান দেন। একপর্যায়ে সব এমপি একযোগে স্লোগান দেন, “ফ্যাসিবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান” এবং অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে নবম তলার বিরোধীদলের সভা কক্ষে চলে যান।

জামায়াতের হুইপ শাহাজাহান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, “রাষ্ট্রপতি পদে যিনি রয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রের অভিভাবক নন, ফ্যাসিবাদের দোসর। তার হাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্ত রয়েছে। তার ভাষণ আমরা শুনব না।”

এর আগে শোক প্রস্তাবের সময়ও নাহিদ ইসলামসহ বিরোধী এমপিরা স্পিকারকে সতর্ক করেছিলেন, যে কোনো ফ্যাসিবাদের দোসর যেন সংসদে উপস্থিত না হতে পারেন। ডা. তাহের সমকালকে বলেছেন, “সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার দোহাই দিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসর রাষ্ট্রপতিকে ভাষণের সুযোগ দিয়েছে সরকার। অভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয়নি। নির্বাচনসহ সব কিছু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণও এ কারণে দেওয়া হয়েছে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

‘কিলার চুপ্পু’ স্লোগানে বিরোধীদের সংসদ ওয়াকআউট

প্রকাশের সময়ঃ ০২:৪৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই ওয়াক আউট করেছেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোটের ৭৭ সংসদ সদস্য।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা ৩৩ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) ঘোষণা করেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কিছুক্ষণের মধ্যে সংসদে প্রবেশ করবেন। ঘোষণা দেওয়া মাত্র বিরোধী এমপিরা দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং রাষ্ট্রপতিকে ‘জুলাই গণহত্যাকারী’ ও ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে পোস্টার প্রদর্শন করেন।

মুখ্য স্পিকার ও সরকারি দলের এমপিরা রাষ্ট্রপতিকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর মধ্যেই বিরোধী দলের এমপিরা সংসদীয় প্রথা উপেক্ষা করে প্রতিবাদ শুরু করেন। পোস্টারে লেখা ছিল, “জুলাই গাদ্দার”, “গো ব্যাক কিলার চুপ্পু”, “কিলার চুপ্পুর বিচার চাই” ইত্যাদি। এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও পোস্টার হাতে প্রতিবাদে যোগ দেন। পুরো ঘটনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ আসন থেকে অবলোকন করেন।

জাতীয় সংগীতের সময় বিরোধী এমপিরা কিছুক্ষণের জন্য বিরতি দেন এবং নীরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করলে জামায়াত জোটের এমপিরা আসন ছেড়ে প্রবেশ পথে নেমে যান। স্লোগান হট্টগোলের কারণে রাষ্ট্রপতির ভাষণ পুরোপুরি শোনা যাচ্ছিল না।

রাষ্ট্রপতিকে ‘জুলাই গণহত্যাকারী’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত জোটের এমপিরা প্রতিবাদ শুরু করেন।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেন, “ফ্যাসিবাদ ও গণতন্ত্র এক সাথে চলে না।” এছাড়া হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল হান্নান মাসউদ, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও সমর্থন জানিয়ে একই ধরনের স্লোগান দেন। একপর্যায়ে সব এমপি একযোগে স্লোগান দেন, “ফ্যাসিবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান” এবং অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে নবম তলার বিরোধীদলের সভা কক্ষে চলে যান।

জামায়াতের হুইপ শাহাজাহান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, “রাষ্ট্রপতি পদে যিনি রয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রের অভিভাবক নন, ফ্যাসিবাদের দোসর। তার হাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্ত রয়েছে। তার ভাষণ আমরা শুনব না।”

এর আগে শোক প্রস্তাবের সময়ও নাহিদ ইসলামসহ বিরোধী এমপিরা স্পিকারকে সতর্ক করেছিলেন, যে কোনো ফ্যাসিবাদের দোসর যেন সংসদে উপস্থিত না হতে পারেন। ডা. তাহের সমকালকে বলেছেন, “সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার দোহাই দিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসর রাষ্ট্রপতিকে ভাষণের সুযোগ দিয়েছে সরকার। অভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয়নি। নির্বাচনসহ সব কিছু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণও এ কারণে দেওয়া হয়েছে।”