
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সড়ক, মহাসড়ক, রেলপথ, নৌপথ এবং বিভিন্ন বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। একই সঙ্গে ফাঁকা হয়ে পড়া রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বাড়ানো হয়েছে টহল ও নজরদারি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঈদের আগে তিনদিন মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও চাঁদাবাজি ঠেকাতে মাঠে থাকছে মোবাইল কোর্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি।
টার্মিনাল ও প্রবেশপথে বিশেষ নজরদারি
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ও যানবাহন পার্কিং বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, ঈদের আগে যাত্রীদের হয়রানি, পকেটমার ও প্রতারণা ঠেকাতে টিকিট কাউন্টার ও টার্মিনালগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। এছাড়া ফিটনেসবিহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন যাতে সড়কে নামতে না পারে সেজন্য মোটর ওয়ার্কশপেও অভিযান চালানো হচ্ছে।
নগরবাসীকে সহায়তা দিতে নগদ অর্থ বা স্বর্ণালংকার পরিবহনের ক্ষেত্রে ডিএমপির ‘মানি এস্কর্ট সার্ভিস’ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ জন্য ০১৩২০০৩৭৮৪৫ ও ০১৩২০০৩৭৮৪৬ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের বিশেষ ব্যবস্থা
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় যানজট কমানো ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মহাসড়কের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীবাহী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধ করা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলতে চালকদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে পুলিশ সদস্যরা সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, ঈদের আগে বিশেষ করে ১৮ ও ১৯ মার্চ সড়কে বাড়তি চাপ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অপরাধ দমনে কড়া অবস্থান
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, মহাসড়কে কোনো ধরনের ডাকাতি, ছিনতাই বা চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। এসব অপরাধ প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বাহিনীটির মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে তল্লাশি ও টহল কার্যক্রম প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।
ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় কড়া টহল
ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ছাড়ায় ঢাকার অনেক আবাসিক এলাকা প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি চেকপোস্ট, মোবাইল টিম ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নাগরিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
ডিএমপি নগরবাসীকে বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বাড়ি বা অফিস ছাড়ার আগে দরজা-জানালা ভালোভাবে তালাবদ্ধ করা, সিসি ক্যামেরা সচল রাখা, নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক রাখা, আশপাশে পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা এবং সন্দেহজনক কাউকে দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানো।
পুলিশ জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে সহায়তার জন্য ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৩২০-০৩৭৮৪৫, ০১৩২০-০৩৭৮৪৬, ২২৩৩৮১১৮৮, ০২৪৭১১৯৯৮৮ ও ০২৯৬১৯৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এও কল করা যাবে। 📞
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এবারের ঈদযাত্রা আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 






















