
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ধারাবাহিক পতন অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টানা পঞ্চম দফায় দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে ভরিতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে স্বর্ণের মূল্য।
বাজুস জানায়, নতুন করে প্রতি ভরিতে ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়, যা সেদিন বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকেই কার্যকর হয়েছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ের ১০ দফা মূল্য সমন্বয়ের মধ্যে ৭ বারই কমেছে স্বর্ণের দাম। এর মধ্যে টানা ৫ দফায় মোট কমেছে ২৩ হাজার ৫০৩ টাকা।
বাজুসের ব্যাখ্যা, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দামে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২১ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকায়, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এর আগে একই দিন সকালে আরেক দফায় দাম সমন্বয় করে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা, যা সকাল ১০টা থেকে কার্যকর ছিল।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে স্বর্ণের দাম মোট ৪৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বেড়েছে এবং ১৯ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস পায়।
স্বর্ণের পাশাপাশি কমেছে রুপার দামও। নতুন দামে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়, যা আগের চেয়ে ৩৫০ টাকা কম। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ২৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ বার বেড়েছে এবং ১৩ বার কমেছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ১৩ বার, যার মধ্যে ১০ বার বৃদ্ধি এবং ৩ বার হ্রাস পায়।
সাম্প্রতিক এই দরপতনে স্বর্ণবাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 

























