ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কোটি টাকার ডাব বাণিজ্য

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মাসে কোটি টাকার বেশি ডাব বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাকভর্তি ডাব সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

‎স্থানীয়রা জানান, রায়পুরের মাটি ও আবহাওয়া নারিকেল গাছের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ফলে বসতভিটা, উঁচু জমি, পুকুর-ঘেরের পাড়সহ বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছ থেকেই ডাব উৎপাদন হচ্ছে। এই ডাব বিক্রি করে অনেক কৃষকের পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে। মৌসুমকে ঘিরে উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

‎তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে নারিকেল চাষ না হলেও বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে লাগানো গাছ থেকেই উৎপাদিত ডাব এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। উপজেলার চর আবাবিল এলাকায় নারিকেল গাছের সংখ্যা বেশি। এখানকার ডাবের পানি মিষ্টি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলক বেশি।

‎রায়পুরের কেরোয়া ও চরবংশী এলাকার ব্যবসায়ী মনুয়া হোসেন ও জাকির মিয়া জানান, প্রায় ১৮ বছর ধরে তারা এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। শুরুতে অল্প পুঁজিতে ঢাকা বাজারে ডাব সরবরাহ করলেও এখন ব্যবসার পরিধি অনেক বেড়েছে। তারা বলেন, “প্রতি শত ডাব ১ হাজার ৫শ’ টাকা দরে কিনে পাইকারি ২ হাজার ৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করি। গরম যত বাড়ে, চাহিদা ও দামও তত বাড়ে। বর্তমানে আমরা প্রতিদিন ২ থেকে ৩ ট্রাক ডাব ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছি।

‎উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এ খাতে জড়িত। বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে তারা গ্রাম ঘুরে গাছ থেকে ডাব সংগ্রহ করেন। পরে আকারভেদে তিনটি গ্রেডে ভাগ করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতি পিস ডাব ৫০ থেকে ৬০ টাকায় কিনে থাকেন।পাড়াতে খরচ পিচপ্রতি ২টাকা করে দিতে হয়।

‎রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, ডাবের পানিতে প্রচুর পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টিগুণ রয়েছে, যা শরীরের জন্য উপকারী। তবে খালি পেটে না খেয়ে কিছু খাবার পর ডাবের পানি পান করার পরামর্শ দেন তিনি।

‎চর আবাবিল বক্লের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর শরীফ জানান, রায়পুর উপজেলার চর আবাবিলে দীর্ঘদিন ধরে নারিকেল গাছের ভালো ফলন হয়ে আসছে। আমরা নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছি এবং প্রতিবছর উপজেলা থেকে উন্নত জাতের নারিকেল চারা বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কোটি টাকার ডাব বাণিজ্য

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মাসে কোটি টাকার বেশি ডাব বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাকভর্তি ডাব সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

‎স্থানীয়রা জানান, রায়পুরের মাটি ও আবহাওয়া নারিকেল গাছের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ফলে বসতভিটা, উঁচু জমি, পুকুর-ঘেরের পাড়সহ বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছ থেকেই ডাব উৎপাদন হচ্ছে। এই ডাব বিক্রি করে অনেক কৃষকের পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে। মৌসুমকে ঘিরে উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

‎তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে নারিকেল চাষ না হলেও বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে লাগানো গাছ থেকেই উৎপাদিত ডাব এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। উপজেলার চর আবাবিল এলাকায় নারিকেল গাছের সংখ্যা বেশি। এখানকার ডাবের পানি মিষ্টি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলক বেশি।

‎রায়পুরের কেরোয়া ও চরবংশী এলাকার ব্যবসায়ী মনুয়া হোসেন ও জাকির মিয়া জানান, প্রায় ১৮ বছর ধরে তারা এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। শুরুতে অল্প পুঁজিতে ঢাকা বাজারে ডাব সরবরাহ করলেও এখন ব্যবসার পরিধি অনেক বেড়েছে। তারা বলেন, “প্রতি শত ডাব ১ হাজার ৫শ’ টাকা দরে কিনে পাইকারি ২ হাজার ৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করি। গরম যত বাড়ে, চাহিদা ও দামও তত বাড়ে। বর্তমানে আমরা প্রতিদিন ২ থেকে ৩ ট্রাক ডাব ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছি।

‎উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এ খাতে জড়িত। বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে তারা গ্রাম ঘুরে গাছ থেকে ডাব সংগ্রহ করেন। পরে আকারভেদে তিনটি গ্রেডে ভাগ করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতি পিস ডাব ৫০ থেকে ৬০ টাকায় কিনে থাকেন।পাড়াতে খরচ পিচপ্রতি ২টাকা করে দিতে হয়।

‎রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, ডাবের পানিতে প্রচুর পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টিগুণ রয়েছে, যা শরীরের জন্য উপকারী। তবে খালি পেটে না খেয়ে কিছু খাবার পর ডাবের পানি পান করার পরামর্শ দেন তিনি।

‎চর আবাবিল বক্লের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর শরীফ জানান, রায়পুর উপজেলার চর আবাবিলে দীর্ঘদিন ধরে নারিকেল গাছের ভালো ফলন হয়ে আসছে। আমরা নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছি এবং প্রতিবছর উপজেলা থেকে উন্নত জাতের নারিকেল চারা বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।