
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি দখল না দিয়ে উল্টো ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাতে ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দ্বীন ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত ব্যক্তি একই এলাকার মুজিবুর মিয়া। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও মৃত ইব্রাহীম মিয়ার ছেলে। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ১৫ অক্টোবর রাতে অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। ঘটনাস্থল এলাকায় পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর দীর্ঘ ১৬ বছর যাবত স্থানীয় নিরীহ মানুষের নিকট থেকে জোরপূর্বক বহু ভূমি দখল করে নিয়েছেন। গত ২০ আগস্ট দ্বীন ইসলাম মিয়ার ছেলে ফুল মিয়া, রতন মিয়ার কাছ থেকে ১৮ শতাংশ ভূমি সাফ-কাবলা দলিল মূলে ক্রয় করেন (দলিল নং- ৬৯৫৯/২৬) এবং পরবর্তীতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর হেবা দলিল মূলে ফুল মিয়া তা তাঁর স্ত্রী পারুল বেগমের নামে লিখে দেন।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, ফুল মিয়া ও তাঁর স্ত্রী পারুল বেগম সৌদি আরব প্রবাসী। দেশে ফুল মিয়ার বাবা দ্বীন ইসলাম মিয়া জমিটি দখল করতে গেলে মুজিবুর বাধা দেন। ১০ নভেম্বর রাতে দ্বীন ইসলাম মিয়ার বাড়িতে মুজিবুরসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন সন্ত্রাসী একত্রে অনধিকার প্রবেশ করে বিভিন্ন খারাপ ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে হুমকি দেয় এবং জমিটি দখল করতে চাইলে নগদ দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। এমনকি দ্বীন ইসলাম মিয়াকে অভিযুক্ত মুজিবুর রহমান প্রকাশ্যে হুমকি দেন যে, ভূমি ভোগ করতে গেলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুন-জখম করা হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুজিবুর মিয়া বলেন, রইছ মিয়ার জমি আমার বাড়ির পাশে, আর আমার জমি রইছ মিয়ার বাড়ির পাশে। আমি ২০১০ সালে রইছ মিয়ার সাথে অওয়াজ-বদল (জমি বিনিময়) করে ১৮ শতাংশ জমি নিয়েছি। পরে সেখানে আমি ১৬ বছর যাবত ভোগ-দখল করে বসতি গড়েছি। তবে আমাদের অওয়াজ-বদলের পর দলিল সৃষ্টি করলেও দলিলে দাগ নম্বর পরিবর্তন হয়নি। এতেই বিপত্তি বাধে। অন্যদিকে রইছ মিয়ার ছেলে রতন তার বাবার কাছ থেকে জমিটি লিখে নিয়ে বিক্রি করে দেয়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জমিটি নিয়ে একাধিক সালিসি-দরবার করি। কিন্তু একটি প্রভাবশালী কুচক্রী মহল আমার জমিটি কিনে নিয়ে দখল করতে আসলে আমি বাধা দিই। আমি জমিটি নিজের দখলে রেখেও ১৪৪ ধারায় আদালতে মামলা করেছি। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেই সাথে জমিটির দাগ নাম্বার সংশোধনের জন্য আদালতের দারস্থ হয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার পক্ষে রায় চলে আসবে।
তিনি আরও বলেন, “আমার জায়গায় আমি ভোগ-দখলে রয়েছি, তাহলে আমি চাঁদাবাজি করবো কেন? উল্টো ফুল মিয়া নামের সৌদি প্রবাসী ব্যক্তি জমিটি ক্রয় করে দখলের চেষ্টা করছে এবং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমার সম্পর্কে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাকে হয়রানি করতে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী দ্বীন ইসলাম মিয়া বলেন, ১৬ বছর যাবত আওয়ামী লীগের ক্ষমতা ব্যবহার করে মুজিবুর জমিটি দখল করে রেখেছে। সঠিক কাগজপত্রের মাধ্যমে আমার ছেলে জমিটি ক্রয় করেছে। আমি জমি দখল নিতে গেলে মুজিবুর ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা আমাদের বাধা দেয়। সেই সাথে আমাদের কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। আমি আইনের মাধ্যমে সঠিক বিচার চাই।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ 

















