
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রভাবিত করতে সরকার বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের কথা বলে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকাকে বিশেষ বরাদ্দের বাইরে রাখার মাধ্যমে বৈষম্য করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেন সাদিক কায়েম।
বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির চিফ হুইপ নিজ এলাকা বরগুনায় গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জয়ী না হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের মানুষ সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হবেন বলে হুমকি দিয়েছেন।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে পছন্দমতো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য শুধু সরকারি দলের ২০৩ জন সংসদ সদস্যকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ডাকসুর ভিপি। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকাগুলো এই বরাদ্দের বাইরে রাখা হয়েছে।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের অনির্বাচিত প্রশাসকেরা নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক প্রচারণায় নেমেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি করছে।
উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ
বিবৃতিতে সাদিক কায়েম বলেন, জনগণের করের টাকায় দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, কোনো রাজনৈতিক দলের অর্থে নয়। অথচ রাজনৈতিক পছন্দের ভিত্তিতে জনগণকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ধরনের আচরণকে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন ডাকসুর ভিপি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রভাবিত করার অভিযোগের পরও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাদিক কায়েম। তাঁর অভিযোগ, ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটারদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চললেও নির্বাচন কমিশন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণকে দুর্বল মনে করে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে দেশ পরিচালনা করলে দলটিকেও অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের মতো পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সাদিক কায়েম আরও হুঁশিয়ারি দেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হলে মানুষ তার জবাব দেবে।
তবে বিবৃতিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকার, বিএনপির চিফ হুইপ ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।
অধিকার ডেস্কঃ 






















