
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সাজেক গণ অধিকার পরিষদ (ইউপিডিএফ সমর্থিত) এই অবরোধের ডাক দিয়েছিল। আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সময় উজোবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উজোবাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যারিকেড সরিয়ে পর্যটকদের খাগড়াছড়ির দিকে পাঠানোর চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয় ও দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই সাজেকের গঙ্গারাম বাজার ও উজোবাজার এলাকার প্রধান সড়কে অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। সড়কে গাছের গুঁড়ি ও বাঁশ ফেলে এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ছুটির পর সাজেক ভ্রমণে যাওয়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটক এতে আটকে পড়েন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যটকদের খাগড়াছড়ি ও বাঘাইহাটে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পর্যটকবাহী গাড়িবহর গঙ্গারাম বাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা ইট-পাটকেল ছোড়েন বলে জানা গেছে।
সকাল সাড়ে ৮টায় সাজেক থেকে রওনা হওয়া পর্যটকবাহী গাড়িগুলো উজোবাজারে পৌঁছালে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে। পরে বেলা ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। সূত্র জানায়, আন্দোলনকারীরা প্রথমে ইট-পাটকেল ছোড়েন এবং একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সকালে সাজেক থেকে রওনা হওয়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটকের বহর নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কাছাকাছি নিরাপদে পৌঁছেছে। অবরোধকারীরা উজোবাজারে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকা ও আশপাশে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপিডিএফ অর্থদণ্ড ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে পাহাড়ি সাধারণ নারী-পুরুষদের জোর করে সড়কে ‘মানবঢাল’ হিসেবে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল। তাদের অভিযোগ, আধিপত্য ও চাঁদাবাজির স্বার্থে পর্যটকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় সচেতন মহল। (অভিযোগ সম্পর্কে ইউপিডিএফের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।)
শীতকালীন পর্যটন মৌসুম শুরুর ঠিক আগে এই সহিংসতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক ভ্রমণে আবারও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এতে সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজ মালিক, পাহাড়ি জিপ (চান্দের গাড়ি) চালক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা।
অধিকার ডেস্কঃ 

















