
ফরিদপুরের নগরকান্দায় খালাকে হত্যা করে লাশ সেপটিক ট্যাংকে গুম করার অভিযোগে ভাগ্নে মো. আলমগীর হোসেন (৪১)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে নগরকান্দা থানা-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর পূর্বপাড়া গ্রামে ঘটে। নিহত জামেলা বেগম (৬৫) স্বামীর মৃত্যুর পর একাই সেখানে বসবাস করতেন। গত শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে তার বাড়ির পাশের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শেখ মোতালেব বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত হিসেবে আলমগীর হোসেনকে শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার ভোরে চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে আর্থিক সংকটে পড়েন আলমগীর। ঋণের চাপ সামলাতে তিনি তার খালা জামেলা বেগমের কাছে টাকা ধার চান। তবে তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এছাড়া খালার জমি বিক্রির কিছু অর্থ একটি এনজিওতে জমা আছে জেনে তা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও করেন তিনি।
ঘটনার দিন রাতে খালার বাড়িতে গিয়ে আবারও টাকা চান আলমগীর। এতে রাজি না হলে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে স্বীকার করেন তিনি। পরে মরদেহ গোপন করতে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 













