ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ক্ষেতলালে সরকারি পুকুরে মাটি-বালু উত্তোলনের অভিযোগ “পোরশায় প্রেসার কুকারের আঘাতে ৫ সন্তানের জননীর মৃত্যু, স্বামী আটক” “জিরো টলারেন্সে দুর্নীতি দমন: মডেল জেলা গড়তে সাংবাদিকদের পাশে চান ডিসি” গণরায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে মানববন্ধন পত্নীতলায় দ্রুতগতির পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধ সাইকেল আরোহীর ইবি বিএনসিসির মহিউদ্দিন, সেনাবাহিনীতে জেসিও পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ছাত্রশিবির রাজপথে সক্রিয় থাকবে- সভাপতি নূরুল সিইসি শপথ ভঙ্গ করেছেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন সিমরিন লুবাবা খালাকে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে লাশ গুম, গ্রেপ্তার ভাগ্নে

গণরায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে মানববন্ধন

গণভোটের গণরায় বাতিলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে

মানববন্ধন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা।

মানববন্ধন উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখা আহ্বায়ক এসএম সুইট, মুখ্য সংগঠক গোলাম রব্বানী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিন, শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত, শাখা খেলাফত মজলিসের সভাপতি জুনায়েদ খান সহ শতাধিক শিক্ষার্থী।

ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, গণভোট ও জনরায়কে উপেক্ষা করলে কেউ টিকে থাকতে পারে না— অতীতেও ফ্যাসিস্ট সরকার তা পারেনি। যখনই শাসকগোষ্ঠী জনগণকে উপেক্ষা করেছে, তখনই আন্দোলন ও সংগ্রাম গড়ে উঠেছে।
৭৫, ৯০-এর গণআন্দোলন থেকে শুরু করে ২৪-এর আন্দোলন পর্যন্ত বাঙালি তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই চালিয়ে গেছে। জুলাই আন্দোলন সেই দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল, যা কোনোভাবেই বিপন্ন হতে দেওয়া যাবে না। এজন্য শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা ছেড়ে দীর্ঘ সময় রাজপথে আন্দোলন করেছে।

শাখা শিবিরের সেক্রেটারি রাসেদুল ইসলাম রাফি বলেন, আন্দোলনের সময় আমরা কেউ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা ভবিষ্যতের কথা ভাবিনি। আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং দেশের মুক্তি। গণভোটে প্রায় ৭০% মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানিয়ে দিয়েছে। এটি জনগণের সুস্পষ্ট রায়।
সরকার ৭২-এর সংবিধানের দোহাই দিয়ে তরুণ সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা শহীদদের হাদির ভাষায় বলতে চাই—যদি কেউ জুলাইয়ের এই আন্দোলন কিংবা গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে, তবে সে এই দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করছে এবং অদৃশ্য কোনো শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে কেউ বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। যারা রক্ত দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছে, তারা প্রয়োজনে আবারও রাস্তায় নামবে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না করে, সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে সম্পূর্ণ ফ্যাসিবাদমুক্ত করুন। যেন ভবিষ্যতে আর কোনো ছাত্র-জনতাকে জীবন দিতে না হয়, আর রাস্তায় নামতে না হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা উচিত। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে যেমন স্বাধীনতা এসেছে, তেমনি ১৯৭২ সালের সংবিধান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি দাবি করেন। বহুবার সংশোধন হওয়ার পরও এই সংবিধান জনগণকে কাঙ্ক্ষিত ন্যায় ও সমতা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই তিনি দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং বিদ্যমান সংবিধান পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষেতলালে সরকারি পুকুরে মাটি-বালু উত্তোলনের অভিযোগ

গণরায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:২৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

গণভোটের গণরায় বাতিলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে

মানববন্ধন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা।

মানববন্ধন উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখা আহ্বায়ক এসএম সুইট, মুখ্য সংগঠক গোলাম রব্বানী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিন, শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত, শাখা খেলাফত মজলিসের সভাপতি জুনায়েদ খান সহ শতাধিক শিক্ষার্থী।

ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, গণভোট ও জনরায়কে উপেক্ষা করলে কেউ টিকে থাকতে পারে না— অতীতেও ফ্যাসিস্ট সরকার তা পারেনি। যখনই শাসকগোষ্ঠী জনগণকে উপেক্ষা করেছে, তখনই আন্দোলন ও সংগ্রাম গড়ে উঠেছে।
৭৫, ৯০-এর গণআন্দোলন থেকে শুরু করে ২৪-এর আন্দোলন পর্যন্ত বাঙালি তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই চালিয়ে গেছে। জুলাই আন্দোলন সেই দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল, যা কোনোভাবেই বিপন্ন হতে দেওয়া যাবে না। এজন্য শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা ছেড়ে দীর্ঘ সময় রাজপথে আন্দোলন করেছে।

শাখা শিবিরের সেক্রেটারি রাসেদুল ইসলাম রাফি বলেন, আন্দোলনের সময় আমরা কেউ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা ভবিষ্যতের কথা ভাবিনি। আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং দেশের মুক্তি। গণভোটে প্রায় ৭০% মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানিয়ে দিয়েছে। এটি জনগণের সুস্পষ্ট রায়।
সরকার ৭২-এর সংবিধানের দোহাই দিয়ে তরুণ সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা শহীদদের হাদির ভাষায় বলতে চাই—যদি কেউ জুলাইয়ের এই আন্দোলন কিংবা গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে, তবে সে এই দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করছে এবং অদৃশ্য কোনো শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে কেউ বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। যারা রক্ত দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছে, তারা প্রয়োজনে আবারও রাস্তায় নামবে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না করে, সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে সম্পূর্ণ ফ্যাসিবাদমুক্ত করুন। যেন ভবিষ্যতে আর কোনো ছাত্র-জনতাকে জীবন দিতে না হয়, আর রাস্তায় নামতে না হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা উচিত। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে যেমন স্বাধীনতা এসেছে, তেমনি ১৯৭২ সালের সংবিধান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি দাবি করেন। বহুবার সংশোধন হওয়ার পরও এই সংবিধান জনগণকে কাঙ্ক্ষিত ন্যায় ও সমতা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই তিনি দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং বিদ্যমান সংবিধান পরিবর্তনের আহ্বান জানান।