
রাঙামাটির সাজেকে টানা আট দিন ধরে সড়ক অবরোধ চলছে। এতে দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পাহাড়ি জনপদটি। বন্ধ রয়েছে যানবাহন চলাচল, সাজেকে যাচ্ছেন না পর্যটকেরাও। অবরোধের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে, অবরোধে সমর্থন না দিলে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হাতে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ নেই) ছিল অবরোধের অষ্টম দিন। এদিন ভোরে সাজেক-মাচালং সড়কে শুকনো পাতায় আগুন দিয়ে সরে যান অবরোধকারীরা। পরে সড়ক থেকে জ্বলন্ত পাতা সরিয়ে টহল অব্যাহত রাখে সেনাবাহিনী। তবে সড়কে অবরোধকারীদের কোনো পিকেটিং দেখা যায়নি।
সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ অবরোধ চলছে বলে জানা গেছে। ইউপিডিএফ-সমর্থিত সংগঠন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন এ কর্মসূচি পালন করছে।
ব্যাহত জনজীবন, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা
অবরোধের কারণে সাজেকের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় বাইরের এলাকার সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয়রা। শিক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, যানবাহনের অভাবে বাজারে সবজি সরবরাহ করতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সাজেক একটি সীমান্তবর্তী এলাকা। এখানে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে। অবরোধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের মতে, স্থানীয়দের কল্যাণের কথা বিবেচনা করলে এ ধরনের কর্মসূচি দীর্ঘায়িত করা উচিত নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অবরোধকারীদের নির্দেশ না মানলে মারধর করা হয়। আন্দোলনে অংশ না নিলে কাউকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, অবৈধ অস্ত্রধারীদের ভয়ে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা, হয়নি সমঝোতা
সাজেকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে গত সোমবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উজোবাজারে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি মেনে নেওয়া হলেও বাকি একটি দাবি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে আলোচনা অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। এরপর অবরোধকারীদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে জানা গেছে।
আলোচনার উদ্যোগ সম্পর্কে কমিটির সদস্য ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা বলেন, জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব পাওয়ার পর স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। ওই সভার বিস্তারিত জেলা প্রশাসনের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তাঁদের আবারও ডাকা হবে।
যান চলাচল বন্ধ, সংঘাতের খবর নেই
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সড়কে অবরোধকারীদের কোনো পিকেটিং দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোথাও সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে অবরোধ চললেও এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
অধিকার ডেস্কঃ 



















