ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

৩ বছর পর গৌরনদীর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এমবিবিএস চিকিৎসাসেবা চালু

গৌরনদী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ছবি

দীর্ঘ তিন বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পুনরায় নিয়মিত চিকিৎসাসেবা চালু হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এমবিবিএস চিকিৎসকদের মাধ্যমে এ সেবা শুরু হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আটজন নতুন চিকিৎসক যোগদান করেন। তাদের মধ্য থেকে চিকিৎসকদের মফস্বল এলাকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে খঞ্জাপুর, নলচিড়া ও বাটাজোর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন একজন করে এমবিবিএস চিকিৎসক রোগী দেখছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে চিকিৎসক না থাকায় সামান্য রোগের চিকিৎসার জন্যও উপজেলা সদরে যেতে হতো। এতে সময় ও অর্থ—দুই-ই অপচয় হতো। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষদের জন্য এটি ছিল বড় ভোগান্তির কারণ। এখন বাড়ির কাছেই বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সরকারি ওষুধ পাওয়ায় তারা অনেকটাই স্বস্তি বোধ করছেন।

বাটাজোর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রিদওয়ানা বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী এখানে সেবা নিচ্ছেন। অনেকেই এখনও জানেন না যে এখানে নিয়মিত চিকিৎসক বসছেন। এ বিষয়ে প্রচার বাড়ানো গেলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফখরুল ইসলাম মৃধা জানান, “স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গত এক সপ্তাহ ধরে এই তিনটি কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় দুইশ রোগীকে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর রোগীর চাপও কমছে।”

উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. তৌকির আহমেদ বলেন, নতুন চিকিৎসক নিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এ সেবা ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

৩ বছর পর গৌরনদীর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এমবিবিএস চিকিৎসাসেবা চালু

প্রকাশের সময়ঃ ১০:০৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ তিন বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পুনরায় নিয়মিত চিকিৎসাসেবা চালু হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এমবিবিএস চিকিৎসকদের মাধ্যমে এ সেবা শুরু হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আটজন নতুন চিকিৎসক যোগদান করেন। তাদের মধ্য থেকে চিকিৎসকদের মফস্বল এলাকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে খঞ্জাপুর, নলচিড়া ও বাটাজোর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন একজন করে এমবিবিএস চিকিৎসক রোগী দেখছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে চিকিৎসক না থাকায় সামান্য রোগের চিকিৎসার জন্যও উপজেলা সদরে যেতে হতো। এতে সময় ও অর্থ—দুই-ই অপচয় হতো। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষদের জন্য এটি ছিল বড় ভোগান্তির কারণ। এখন বাড়ির কাছেই বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সরকারি ওষুধ পাওয়ায় তারা অনেকটাই স্বস্তি বোধ করছেন।

বাটাজোর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রিদওয়ানা বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী এখানে সেবা নিচ্ছেন। অনেকেই এখনও জানেন না যে এখানে নিয়মিত চিকিৎসক বসছেন। এ বিষয়ে প্রচার বাড়ানো গেলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফখরুল ইসলাম মৃধা জানান, “স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গত এক সপ্তাহ ধরে এই তিনটি কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় দুইশ রোগীকে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর রোগীর চাপও কমছে।”

উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. তৌকির আহমেদ বলেন, নতুন চিকিৎসক নিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এ সেবা ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।