ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

আজ ৩০ উপজেলায় একযোগে হামের বিশেষ টিকাদান শুরু

সংগৃহীত ছবি।

দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপে দেশের ৩০টি হটস্পট উপজেলা ও পৌরসভায় আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় একযোগে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে—সে আগে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছোট শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, কোনো শিশুকে সুরক্ষার বাইরে না রাখাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এজন্য পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রথম ধাপে যেসব এলাকায় এই বিশেষ কর্মসূচি পরিচালিত হবে তার মধ্যে রয়েছে—
রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঢাকার নবাবগঞ্জ; মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর; ঝালকাঠির নলছিটি; ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর; চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া; নওগাঁর পোরশা; গাজীপুর সদর; নেত্রকোনার আটপাড়া; শরীয়তপুরের জাজিরা; বরগুনা সদর; মাদারীপুর সদর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট; নাটোর সদর এবং যশোর সদর উপজেলা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের মোট ৩০টি হটস্পট এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা সদর ও পৌরসভা এলাকায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে মাদারীপুর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঝালকাঠি ও শরীয়তপুরসহ কিছু এলাকায় ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও সতর্কতামূলকভাবে সেগুলোকে কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, যেসব শিশু জ্বরে আক্রান্ত বা অসুস্থ রয়েছে, তাদের সাময়িকভাবে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকাদানই হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে গিয়ে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

আজ ৩০ উপজেলায় একযোগে হামের বিশেষ টিকাদান শুরু

প্রকাশের সময়ঃ ১২:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপে দেশের ৩০টি হটস্পট উপজেলা ও পৌরসভায় আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় একযোগে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে—সে আগে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছোট শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, কোনো শিশুকে সুরক্ষার বাইরে না রাখাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এজন্য পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রথম ধাপে যেসব এলাকায় এই বিশেষ কর্মসূচি পরিচালিত হবে তার মধ্যে রয়েছে—
রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঢাকার নবাবগঞ্জ; মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর; ঝালকাঠির নলছিটি; ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর; চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া; নওগাঁর পোরশা; গাজীপুর সদর; নেত্রকোনার আটপাড়া; শরীয়তপুরের জাজিরা; বরগুনা সদর; মাদারীপুর সদর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট; নাটোর সদর এবং যশোর সদর উপজেলা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের মোট ৩০টি হটস্পট এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা সদর ও পৌরসভা এলাকায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে মাদারীপুর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঝালকাঠি ও শরীয়তপুরসহ কিছু এলাকায় ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও সতর্কতামূলকভাবে সেগুলোকে কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, যেসব শিশু জ্বরে আক্রান্ত বা অসুস্থ রয়েছে, তাদের সাময়িকভাবে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকাদানই হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে গিয়ে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।