
জাতীয় সংসদে মুক্তিযোদ্ধা ইস্যুতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এক বক্তব্যের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের মধ্যেও মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এ ঘটনা ঘটে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি দলের বেঞ্চে অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন এবং বিএনপির কয়েকজন সদস্যের নামও উল্লেখ করেন। তবে তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের বেঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা খুঁজে পাওয়ার সুযোগ নেই।
এ মন্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হৈচৈ শুরু করেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হস্তক্ষেপ করে বলেন, “বিরোধী দলের বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। আমি নিজেও দেখেছি, গাজী নজরুল ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা।”
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সম্প্রতি সংসদে দাবি করেন, তিনি ১৯৭১ সালে নবম সেক্টরে মেজর জলিলের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তবে পরবর্তীতে তার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেও মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর যোদ্ধা। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পদে থাকা অবস্থায় বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন তিনি এবং নবম সেক্টরে যুদ্ধ করেন। বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বাধীনতার পর তাকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
স্পিকারের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা শান্ত হন এবং প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্য পুনরায় শুরু করেন। ঘটনাটি সংসদে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 






















