ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

আয়েশা বিনতে সাদাতসহ ম্যাথ অলিম্পিকে চ্যাম্পিয়নদের উচ্ছ্বাস

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান হয়।

দেশের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা আবারও প্রমাণ করল—গণিত শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়, বরং দক্ষতা, দ্রুততা ও আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য প্রকাশ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত Math Ninja Champions of Calculation 18th National Abacus and Mental Arithmetic Competition 2026-এ অংশ নিয়ে অসাধারণ পারদর্শিতা দেখিয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে Aloha Bangladesh।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপে অংশগ্রহণকারীরা চোখের পলকে জটিল গাণিতিক হিসাব সমাধান করে বিচারকদের মুগ্ধ করে। দ্রুত মানসিক গণনা (Mental Arithmetic) ও অ্যাবাকাস ব্যবহারের সমন্বয়ে তাদের এই পারফরম্যান্স ছিল দৃষ্টিনন্দন ও প্রশংসনীয়।

প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ক্ষুদে প্রতিযোগীদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা ও নির্ভুল হিসাব করার সক্ষমতা। বিশেষ করে বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা বিনতে সাদাত তার অসাধারণ দক্ষতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সবার নজর কাড়ে। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আয়েশা বিনতে সাদাত বলে, “প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে খুবই আনন্দ লাগছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে চাই।” তার এ আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য উপস্থিত সবার মাঝে অনুপ্রেরণা জোগায়।

বীর শ্রেষ্ঠ নূরমোহাম্মদ পাবলিক কলেজের দিত্বীয় শ্রেণীর  শিক্ষার্থী আয়েশা বিনতে সাদাত।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিজয়ীদের মাঝে পদক, সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ক্ষুদে বিজয়ীরা যখন তাদের অর্জন প্রদর্শন করে, তখন পুরো মিলনায়তনে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অভিভাবকরা তাদের সন্তানের এমন সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেন।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান Aloha Bangladesh-এর প্রতিনিধিরা জানান, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিশুদের গণিতভীতি দূর করে এবং তাদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে করে শিক্ষার্থীরা অল্প সময়েই জটিল সমস্যার সমাধান করতে শেখে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে গণিত ও বিশ্লেষণী দক্ষতার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের এ ধরনের সৃজনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত করা প্রয়োজন। তারা ভবিষ্যতে এ প্রতিযোগিতাকে আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষাবিদদের মতে, অ্যাবাকাস ও মানসিক গণনার চর্চা শুধু গণিতেই নয়, বরং স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। ফলে এ ধরনের উদ্যোগ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গণিত দক্ষতা অর্জনের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। ভবিষ্যতে এদের মধ্য থেকেই উঠে আসবে বিশ্বমানের গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

আয়েশা বিনতে সাদাতসহ ম্যাথ অলিম্পিকে চ্যাম্পিয়নদের উচ্ছ্বাস

প্রকাশের সময়ঃ ০২:৩৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

দেশের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা আবারও প্রমাণ করল—গণিত শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়, বরং দক্ষতা, দ্রুততা ও আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য প্রকাশ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত Math Ninja Champions of Calculation 18th National Abacus and Mental Arithmetic Competition 2026-এ অংশ নিয়ে অসাধারণ পারদর্শিতা দেখিয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে Aloha Bangladesh।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপে অংশগ্রহণকারীরা চোখের পলকে জটিল গাণিতিক হিসাব সমাধান করে বিচারকদের মুগ্ধ করে। দ্রুত মানসিক গণনা (Mental Arithmetic) ও অ্যাবাকাস ব্যবহারের সমন্বয়ে তাদের এই পারফরম্যান্স ছিল দৃষ্টিনন্দন ও প্রশংসনীয়।

প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ক্ষুদে প্রতিযোগীদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা ও নির্ভুল হিসাব করার সক্ষমতা। বিশেষ করে বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা বিনতে সাদাত তার অসাধারণ দক্ষতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সবার নজর কাড়ে। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আয়েশা বিনতে সাদাত বলে, “প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে খুবই আনন্দ লাগছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে চাই।” তার এ আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য উপস্থিত সবার মাঝে অনুপ্রেরণা জোগায়।

বীর শ্রেষ্ঠ নূরমোহাম্মদ পাবলিক কলেজের দিত্বীয় শ্রেণীর  শিক্ষার্থী আয়েশা বিনতে সাদাত।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিজয়ীদের মাঝে পদক, সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ক্ষুদে বিজয়ীরা যখন তাদের অর্জন প্রদর্শন করে, তখন পুরো মিলনায়তনে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অভিভাবকরা তাদের সন্তানের এমন সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেন।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান Aloha Bangladesh-এর প্রতিনিধিরা জানান, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিশুদের গণিতভীতি দূর করে এবং তাদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে করে শিক্ষার্থীরা অল্প সময়েই জটিল সমস্যার সমাধান করতে শেখে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে গণিত ও বিশ্লেষণী দক্ষতার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের এ ধরনের সৃজনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত করা প্রয়োজন। তারা ভবিষ্যতে এ প্রতিযোগিতাকে আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষাবিদদের মতে, অ্যাবাকাস ও মানসিক গণনার চর্চা শুধু গণিতেই নয়, বরং স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। ফলে এ ধরনের উদ্যোগ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গণিত দক্ষতা অর্জনের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। ভবিষ্যতে এদের মধ্য থেকেই উঠে আসবে বিশ্বমানের গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।