ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির পক্ষে হাইকোর্টে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ

ফাইল ছবি।

রাজধানীর মিরপুর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে হাইকোর্টে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স ল ইয়ার) হিসেবে আইনজীবী মো. হাফিজুর রহমান খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবী মো. হাফিজুর রহমান খান বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নিশ্চিত করেন, ১৭ জুন তাঁকে ওই মামলায় দুই আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য স্টেট ডিফেন্স ল ইয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এবং মামলাটি কার্যতালিকায় এলে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।

এর আগে ১৬ জুন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দুই আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য স্টেট ডিফেন্স ল ইয়ার নিয়োগের আদেশ দেন।

মামলার পটভূমি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ওই শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের আগেই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে সোহেলকে পাঁচ লাখ এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ৯ জুন হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছায় এবং ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়।

পাশাপাশি দুই আসামি কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১১ জুন পৃথক জেল আপিল দাখিল করেন। ১৪ জুন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ জেল আপিল দুটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। পরদিন ১৬ জুন ডেথ রেফারেন্সটি কার্যতালিকায় ওঠে।

উল্লেখ্য, পল্লবীর এই মামলার মতো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালনার জন্য প্রধান বিচারপতি ১০ জুন একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত এই বেঞ্চ ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে।

ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া অনুযায়ী, বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করতে হলে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হয়, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা নামে পরিচিত। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিরা জেল আপিল, নিয়মিত আপিল ও বিবিধ আবেদন করতে পারেন। সাধারণত ডেথ রেফারেন্স এবং এসব আপিল একসঙ্গে শুনানি হয়। ইতোমধ্যে এ মামলার পেপারবুক (মামলার বিস্তারিত বিবরণ) তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির পক্ষে হাইকোর্টে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে হাইকোর্টে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স ল ইয়ার) হিসেবে আইনজীবী মো. হাফিজুর রহমান খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবী মো. হাফিজুর রহমান খান বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নিশ্চিত করেন, ১৭ জুন তাঁকে ওই মামলায় দুই আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য স্টেট ডিফেন্স ল ইয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এবং মামলাটি কার্যতালিকায় এলে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।

এর আগে ১৬ জুন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দুই আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য স্টেট ডিফেন্স ল ইয়ার নিয়োগের আদেশ দেন।

মামলার পটভূমি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ওই শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের আগেই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে সোহেলকে পাঁচ লাখ এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ৯ জুন হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছায় এবং ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়।

পাশাপাশি দুই আসামি কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১১ জুন পৃথক জেল আপিল দাখিল করেন। ১৪ জুন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ জেল আপিল দুটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। পরদিন ১৬ জুন ডেথ রেফারেন্সটি কার্যতালিকায় ওঠে।

উল্লেখ্য, পল্লবীর এই মামলার মতো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালনার জন্য প্রধান বিচারপতি ১০ জুন একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত এই বেঞ্চ ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে।

ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া অনুযায়ী, বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করতে হলে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হয়, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা নামে পরিচিত। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিরা জেল আপিল, নিয়মিত আপিল ও বিবিধ আবেদন করতে পারেন। সাধারণত ডেথ রেফারেন্স এবং এসব আপিল একসঙ্গে শুনানি হয়। ইতোমধ্যে এ মামলার পেপারবুক (মামলার বিস্তারিত বিবরণ) তৈরি হয়েছে।