
বাহাত্তরের সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদে শোষণমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ আইনজীবী ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সময়ের পরিবর্তনে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন হতে পারে। তবে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত এ সংবিধানকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশের সংবিধান দিবস’ উপলক্ষে গণফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অসুস্থতার কারণে ড. কামাল হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ইমেরিটাস সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর মহান সংবিধান দিবস। লক্ষ প্রাণের রক্তে রঞ্জিত এ দেশের সংবিধান জনপ্রত্যাশার দলিল, যার প্রকৃত মালিক জনগণ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিহত করা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাস নির্মূলের পাশাপাশি লাখ লাখ বেকার যুবকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ড. কামাল হোসেন বলেন, একটি অশুভ শক্তি বর্তমানে সংবিধান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছে, যা জাতিকে বিভাজিত করছে। বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও জনগণের মৌলিক অধিকার কোনোভাবেই হরণ করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে এগিয়ে আসতে হবে।
গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, অধ্যাপক আবু সাঈদ প্রমুখ।
সভায় সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে জনগণের প্রয়োজন ও প্রত্যাশার ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধন হবে। তাঁর মতে, সংবিধান সংশোধনযোগ্য, কারণ মানুষের জীবন স্থির নয়, গতিশীল। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ ও প্রতিফলিত করার নামই সংবিধান।
এ সময় বিরোধী দলকে গোঁয়ার্তুমি ছেড়ে সাধারণ মানুষের ভাষা বোঝার আহ্বান জানান তিনি।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, কেবল দলীয় স্বার্থে কোনো সংবিধান পরিবর্তন করা যায় না। দলের শক্তি, সাংগঠনিক সামর্থ্য কিংবা সংসদে সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মান্না বলেন, বর্তমানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিতর্ক সামনে এসেছে। এ সময়ে জাতির বিবেক হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সাহসের সঙ্গে সত্য তুলে ধরা উচিত। সত্যের পক্ষে সবাইকে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত সত্যেরই বিজয় হতে হবে।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, সংস্কার ও সংশোধনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ভিত্তি অস্বীকার করে নতুন করে ভিত্তি স্থাপন করাকে সংস্কার বলা হয়। ১৯৭২ সালের সংবিধানে এমন কিছু মৌলিক প্রতিষ্ঠিত সত্য রয়েছে, যা পরিবর্তনের অধিকার কারও নেই।
মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের ভিত্তি অক্ষুণ্ন রেখেই সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অধিকার ডেস্কঃ 
























