ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

“৩১ দফা দিয়েই আমরা সংস্কারের পথে হেঁটেছি”-বগুড়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে তিনি রাজনৈতিক সংস্কার, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অতীত শাসনব্যবস্থা নিয়ে নানা মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের ভয়ে অনেক রাজনৈতিক দল যেখানে সংস্কারের কথা বলতেও সাহস পায়নি, সেখানে বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।” তার দাবি, গত দেড় দশকে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংকিং ও যোগাযোগ খাতে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছিল, যার ফলে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন কাজ করছে এবং তার দল ইতোমধ্যে স্বচ্ছ প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতভেদ থাকলেও লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ।

জনসভায় তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষায়, দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় পেশাজীবীদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে সরাসরি জনগণ উপকৃত হবে।

যুব কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিদেশে স্বল্প খরচে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দেন, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো পরিবহনের উপযোগী করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে দিনের শুরুতে তিনি বগুড়া জেলা জজ আদালতের নবনির্মিত ভবন ও ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এছাড়া তিনি গাবতলীর বাগবাড়ীতে পারিবারিক ভিটা পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন করে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বগুড়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক জনস্রোতে ভরে ওঠে, যা পুরো উত্তরাঞ্চলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

“৩১ দফা দিয়েই আমরা সংস্কারের পথে হেঁটেছি”-বগুড়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:০১:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে তিনি রাজনৈতিক সংস্কার, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অতীত শাসনব্যবস্থা নিয়ে নানা মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের ভয়ে অনেক রাজনৈতিক দল যেখানে সংস্কারের কথা বলতেও সাহস পায়নি, সেখানে বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।” তার দাবি, গত দেড় দশকে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংকিং ও যোগাযোগ খাতে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছিল, যার ফলে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন কাজ করছে এবং তার দল ইতোমধ্যে স্বচ্ছ প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতভেদ থাকলেও লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ।

জনসভায় তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষায়, দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় পেশাজীবীদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে সরাসরি জনগণ উপকৃত হবে।

যুব কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিদেশে স্বল্প খরচে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দেন, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো পরিবহনের উপযোগী করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে দিনের শুরুতে তিনি বগুড়া জেলা জজ আদালতের নবনির্মিত ভবন ও ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এছাড়া তিনি গাবতলীর বাগবাড়ীতে পারিবারিক ভিটা পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন করে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বগুড়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক জনস্রোতে ভরে ওঠে, যা পুরো উত্তরাঞ্চলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।