ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত বাগাতিপাড়ায় স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি মহিলাদলের মতবিনিময় সভা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত নতুন প্রজন্মের কাছে ৭ নভেম্বরের ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান ময়মনসিংহে এম.পি ওয়াহিদের ইতিহাসে প্রত্যেকের অবদান সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে হবে: নাটোরে হুইপ দুলু রেডি হও জামায়াত, তোমাদের পাকিস্তান পাঠানো হবে- চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাপিয়া জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়াল সরকার, ৭ নভেম্বর থেকেই কার্যকর: মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দাম কমার পর যে দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য র‍্যালি।

“করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র‍্যালি, জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলন, সমবায় মেলা, আলোচনা সভা এবং শ্রেষ্ঠ সমবায়ী ও উদ্যোক্তাদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসন ও জেলা সমবায় বিভাগের যৌথ আয়োজনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিতে বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে র‍্যালিটি আবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এসে শেষ হয়।

 র‍্যালি শেষে জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনিসুর রহমান। এরপর পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সমবায় মেলার উদ্বোধন করেন অতিথিরা। মেলায় জেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতির কার্যক্রম, উৎপাদিত পণ্য ও সাফল্য তুলে ধরতে মোট ১৪টি স্টল অংশ নেয়। অতিথিরা স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং সমবায়ীদের পণ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

 মেলা পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী এবং সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনিসুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাবুদ্দীন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. গোলাম জাকারিয়া ও জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সমবায় সমিতির প্রতিনিধি ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 জেলা প্রশাসক বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সমবায় খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। একা যে কাজ কঠিন, সমবায়ের মাধ্যমে তা সহজে করা যায়। সমিতিগুলোকে কার্যকর, স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করতে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে বলেও মত দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সমবায়ের মূল শক্তি সদস্যদের ঐক্য ও পারস্পরিক আস্থা, তাই কার্যক্রমে স্বচ্ছতার পাশাপাশি সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে জাতীয় সমবায় দিবসের উদ্বোধন করা হয়।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, স্থানীয় সম্পদ ও জনশক্তি ঠিকভাবে কাজে লাগালে সমবায়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন সম্ভব। এ জন্য সমবায়ীদের গতানুগতিক কার্যক্রমের বাইরে এসে উৎপাদনমুখী ও আয়বর্ধক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 আলোচনা সভা শেষে সমবায় খাতে বিশেষ অবদান, সফল কার্যক্রম ও উদ্যোক্তা হিসেবে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

শ্রেষ্ঠ সমিতি: পলশা মহেষপুর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং অগ্রণী সেচ প্রকল্প পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড,শ্রেষ্ঠ সমবায়ী: ঘাটিয়ালপাড়া হেনা মহিলা সমবায় সমিতি লিমিটেড,শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি উৎপাদনমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান।

 সমবায় শুধু সঞ্চয় বা ঋণ কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়। কৃষি, সেচ, পানি ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প, নারী উদ্যোক্তা তৈরি এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াতেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে সমবায় বড় অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিয়মিত নিরীক্ষা, সদস্যদের অধিকার সংরক্ষণ, নেতৃত্বের জবাবদিহি ও উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সমবায়ীদের আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে এ খাতের কার্যকারিতা আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগে জেলার সমবায় আন্দোলন আরও গতিশীল হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সমবায় সমিতিগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

“করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র‍্যালি, জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলন, সমবায় মেলা, আলোচনা সভা এবং শ্রেষ্ঠ সমবায়ী ও উদ্যোক্তাদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসন ও জেলা সমবায় বিভাগের যৌথ আয়োজনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিতে বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে র‍্যালিটি আবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এসে শেষ হয়।

 র‍্যালি শেষে জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনিসুর রহমান। এরপর পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সমবায় মেলার উদ্বোধন করেন অতিথিরা। মেলায় জেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতির কার্যক্রম, উৎপাদিত পণ্য ও সাফল্য তুলে ধরতে মোট ১৪টি স্টল অংশ নেয়। অতিথিরা স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং সমবায়ীদের পণ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

 মেলা পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী এবং সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনিসুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাবুদ্দীন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. গোলাম জাকারিয়া ও জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সমবায় সমিতির প্রতিনিধি ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 জেলা প্রশাসক বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সমবায় খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। একা যে কাজ কঠিন, সমবায়ের মাধ্যমে তা সহজে করা যায়। সমিতিগুলোকে কার্যকর, স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করতে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে বলেও মত দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সমবায়ের মূল শক্তি সদস্যদের ঐক্য ও পারস্পরিক আস্থা, তাই কার্যক্রমে স্বচ্ছতার পাশাপাশি সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে জাতীয় সমবায় দিবসের উদ্বোধন করা হয়।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, স্থানীয় সম্পদ ও জনশক্তি ঠিকভাবে কাজে লাগালে সমবায়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন সম্ভব। এ জন্য সমবায়ীদের গতানুগতিক কার্যক্রমের বাইরে এসে উৎপাদনমুখী ও আয়বর্ধক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 আলোচনা সভা শেষে সমবায় খাতে বিশেষ অবদান, সফল কার্যক্রম ও উদ্যোক্তা হিসেবে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

শ্রেষ্ঠ সমিতি: পলশা মহেষপুর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং অগ্রণী সেচ প্রকল্প পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড,শ্রেষ্ঠ সমবায়ী: ঘাটিয়ালপাড়া হেনা মহিলা সমবায় সমিতি লিমিটেড,শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি উৎপাদনমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান।

 সমবায় শুধু সঞ্চয় বা ঋণ কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়। কৃষি, সেচ, পানি ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প, নারী উদ্যোক্তা তৈরি এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াতেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে সমবায় বড় অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিয়মিত নিরীক্ষা, সদস্যদের অধিকার সংরক্ষণ, নেতৃত্বের জবাবদিহি ও উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সমবায়ীদের আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে এ খাতের কার্যকারিতা আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগে জেলার সমবায় আন্দোলন আরও গতিশীল হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সমবায় সমিতিগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে।