
নারীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তি, নারীদের সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, কৃষকদের ঋণমুক্তকরণ, নতুন শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মেয়েদের শিক্ষায় আর্থিক বাধা দূর করতে স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে করা হবে। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।”
তিনি বলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগই উন্নত জাতি গঠনের মূল ভিত্তি এবং নারী শিক্ষার প্রসার দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
জনসভায় নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা আরও বাড়ানো হবে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের কোটি নারীকে এর আওতায় আনা হবে। নিম্নআয়ের পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এলপিজি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। “নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, ঋণমুক্ত হবে ১২ লাখ কৃষক-কৃষি খাতকে উৎপাদনমুখী ও টেকসই করতে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে এবং কৃষিঋণ মওকুফ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে ১২ লাখ কৃষককে ঋণমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সার, বীজ, প্রযুক্তি ও বাজার সহায়তাও জোরদার করা হবে।শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা হবে।তিনি আরও বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণেও সরকার কাজ করছে, যাতে দক্ষ জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পাঠানো যায়।খেলাধুলার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী ২ মে থেকে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে। প্রথম ধাপে ৫০০ খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ ও সম্মাননা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াবে।”
জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বক্তারা এ ঘোষণাগুলোকে শিক্ষা, কৃষি, নারী উন্নয়ন ও যুব কর্মসংস্থানে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষা থেকে কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা থেকে শিল্পায়ন-একই মঞ্চে দেওয়া এই বহুমাত্রিক ঘোষণাগুলো আগামী দিনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 






















