
এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী চার প্রার্থী—আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন, আলহাজ্ব ফজলে রাব্বি তোহা, মোয়াজ্জেম হোসেন মিজান এবং অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম—তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাদের রাজনৈতিক সংগ্রাম, শিক্ষামূলক নেতৃত্ব এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড তৃণমূলের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে।
আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন সাবেক সংসদ সদস্য এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, বগুড়া জেলা বিএনপি। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি সবচেয়ে জনপ্রিয়। কাহালু-নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে তিনি বিপদে-আপদে দলের কর্মীদের পাশে থেকেছেন। কৃষক দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেও সবসময় বগুড়ার উন্নয়ন ও কৃষকের সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কাছে যেকোনো সময়ে আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
আলহাজ্ব মাওলানা ফজলে রাব্বি (তোহা) ৩৫ বছর ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। তিনি নুন্দহ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ ছিলেন, তবে রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে ২০১১ সালে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। ১/১১-এর সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার তৃণমূলের সঙ্গে টেলিকমিউনিকেশন সংযোগের দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তির দাবিতে তিনি স্বরকলিপি প্রদান করেছিলেন এবং প্রকৃত শহীদ জিয়ার সৈনিক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামকালে বিশটিরও বেশি মামলার শিকার এবং প্রায় উনিশ মাস কারাগারে কাটিয়েছেন। বাড়ির মালামাল ক্রোক হয়েছে, জীবনের হুমকি ও ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। তবুও তিনি কখনো দলের কর্মকাণ্ড থেকে পিছিয়ে যাননি।
মোয়াজ্জেম হোসেন মিজান বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত এক সংগ্রামী নেতা। বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের তৃণমূল পর্যায়ে পরিচিত তিনি সাহসী ও ত্যাগী রাজনীতিক হিসেবে। বিএসএস (অনার্স), এমএসএস (মাস্টার্স) এবং এলএলবি (আইন) ডিগ্রিধারী মিজান শিক্ষিত, বিচক্ষণ ও সমাজনিষ্ঠ নেতা। তিনি ইসলামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বগুড়ার অধ্যক্ষ ও পরিচালক এবং আইডিয়াল জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি নর্থ বেঙ্গল ডেইরী অ্যান্ড বীফ ফ্যাটেনিং (প্রা:) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তরুণদের কর্মসংস্থানে অবদান রাখছেন।
রাজনীতিতে তার পথচলা ছাত্রজীবন থেকেই। তিনি সরকারী আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি, নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ভাটরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী তাঁর উপর গুলি চালিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে, যা থেকে তিনি গুরুতর আহত হন। ২০০৭ সালের ১/১১ সময়কালীন সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকারের সময়, সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চলাকালে, মিজান সাহসী মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। তখনও তার উপর গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যার ফলে তার একটি পা ভেঙে যায়। এরপর ২০১৩ সালে শেখ হাসিনা সরকারের হটাও আন্দোলনের সময় বগুড়া সদর থানার সামনে অনুষ্ঠিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে তার এক চোখে গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। এই সব নির্যাতন তাঁকে রাজনীতিতে হাল ছাড়তে পারেনি; বরং তিনি আরও দৃঢ়ভাবে তৃণমূলের সঙ্গে রাজপথে ফিরে আসেন।
অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের সঙ্গে এগিয়ে এসেছেন। তিনি কৈচড় টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবং কাহালু উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক সদস্য সচিব। এছাড়া কাহালু উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক হিসেবেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (কারিগরি) হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য ফেডারেশনের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।
স্থানীয়রা মনে করেন, এই চার নেতা শুধু রাজনীতিক নন; তারা সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ এবং তৃণমূলের আস্থা অর্জনকারী নেতা। মোশাররফ হোসেনের জনপ্রিয়তা, ফজলে রাব্বি তোহার অভিজ্ঞতা, মিজানের সংগ্রামী চেতনা এবং রফিকুল ইসলামের শিক্ষামূলক নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে তারা নির্বাচনী মাঠে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় দলের অভ্যন্তরীণ সমর্থন এবং জনগণের আশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রত্যেক প্রার্থীই বিএনপির আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। তারা জনগণের অধিকার, স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ন্যায়বিচারের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে রয়েছেন।
স্থানীয়রা আশাবাদী যে, যেকোনো প্রার্থী মনোনয়ন পেলে বগুড়ার মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন। নির্বাচনী মাঠে চার প্রার্থী নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও আদর্শ উপস্থাপন করে বগুড়া-৪ আসনের রাজনৈতিক দিক নির্ধারণ করবেন।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 

























