ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতের বিষয়বস্তু বানিয়ে দ্বিচারিতা করছে সরকার: শিশির মনির

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বৈধতা প্রশ্নে উচ্চ আদালত থেকে রুল জারির পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শিশির মনির।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির মন্তব্য করেছেন, যদি দেশে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ না থাকে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলো কার্যকর না হয়, তাহলে নির্বাচন এবং সরকারের অস্তিত্বই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হবে। তিনি মনে করেন, সরকার রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতের বিষয়বস্তু বানিয়ে এক ধরনের দ্বিচারিতা করছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) উচ্চ আদালত থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বৈধতা নিয়ে রুল জারির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিশির মনির এসব কথা বলেন।

শিশির মনির বলেন, “যদি বাংলাদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ না থাকে, ৩০টি কনসেনসাসের ভিত্তিতে গ্রহণকৃত সংস্কার প্রস্তাব কার্যকর না হয়, তাহলে গণভোটও অবৈধ হয়ে যাবে। তখন নির্বাচন থাকবে কি? সরকার থাকবে কি? নিজের পদ থাকবে কি? সবকিছুই বড় ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। এই দায় ও দায়িত্ব তাদের নিতে হবে।”

আদালতের রুল সম্পর্কে তিনি জানান, চারটি পৃথক রুল জারি করা হয়েছে- সংবিধানের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের সাংবিধানিক বৈধতা। সংবিধান সংশোধন সভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার চিঠির বৈধতা।
 গণভোট অধ্যাদেশের ধারা-৩তে থাকা চারটি প্রশ্নের বৈধতা। ঐকমত্যের ভিত্তিতে করা ৩০টি সংস্কার প্রস্তাবের বৈধতা।

শিশির মনির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৫ আগস্টের পর যে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা রাজনৈতিক ঐকমত্যের বাইরে নিয়ে এসে আদালতের বিষয়বস্তু বানানো হয়েছে। অতীতেও এমন রাজনৈতিক অমীমাংসিত বিষয়কে আদালতের অধীনে আনা ভালো ফল দেয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল যে ৩০টি বিষয়ে একমত হয়েছিল, তা কার ইশারায় রুলের অধীনে আনা হয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। তবে রিট পরিচালনা ও শুনানিতে সরকারের একাংশের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা দেখা যাচ্ছে।”

সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, “সরকার সংসদকে এড়িয়ে আদালতের মাধ্যমে ফয়সালা করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। একদিকে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার প্রস্তাব পাঠাচ্ছে, যা ওই ৩০টি সংস্কার প্রস্তাবের অংশ; অন্যদিকে নিজের নির্দেশনায় পরোক্ষভাবে রিট করিয়ে সেটিকে চ্যালেঞ্জ করছে। এটাই হলো দ্বিচারিতা।”

এর আগে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন। এছাড়া, সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত সপ্তাহে রিট দায়ের করেন আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম। উভয় রিটকারীই বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতের বিষয়বস্তু বানিয়ে দ্বিচারিতা করছে সরকার: শিশির মনির

প্রকাশের সময়ঃ ১২:২৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির মন্তব্য করেছেন, যদি দেশে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ না থাকে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলো কার্যকর না হয়, তাহলে নির্বাচন এবং সরকারের অস্তিত্বই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হবে। তিনি মনে করেন, সরকার রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতের বিষয়বস্তু বানিয়ে এক ধরনের দ্বিচারিতা করছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) উচ্চ আদালত থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বৈধতা নিয়ে রুল জারির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিশির মনির এসব কথা বলেন।

শিশির মনির বলেন, “যদি বাংলাদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ না থাকে, ৩০টি কনসেনসাসের ভিত্তিতে গ্রহণকৃত সংস্কার প্রস্তাব কার্যকর না হয়, তাহলে গণভোটও অবৈধ হয়ে যাবে। তখন নির্বাচন থাকবে কি? সরকার থাকবে কি? নিজের পদ থাকবে কি? সবকিছুই বড় ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। এই দায় ও দায়িত্ব তাদের নিতে হবে।”

আদালতের রুল সম্পর্কে তিনি জানান, চারটি পৃথক রুল জারি করা হয়েছে- সংবিধানের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের সাংবিধানিক বৈধতা। সংবিধান সংশোধন সভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার চিঠির বৈধতা।
 গণভোট অধ্যাদেশের ধারা-৩তে থাকা চারটি প্রশ্নের বৈধতা। ঐকমত্যের ভিত্তিতে করা ৩০টি সংস্কার প্রস্তাবের বৈধতা।

শিশির মনির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৫ আগস্টের পর যে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা রাজনৈতিক ঐকমত্যের বাইরে নিয়ে এসে আদালতের বিষয়বস্তু বানানো হয়েছে। অতীতেও এমন রাজনৈতিক অমীমাংসিত বিষয়কে আদালতের অধীনে আনা ভালো ফল দেয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল যে ৩০টি বিষয়ে একমত হয়েছিল, তা কার ইশারায় রুলের অধীনে আনা হয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। তবে রিট পরিচালনা ও শুনানিতে সরকারের একাংশের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা দেখা যাচ্ছে।”

সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, “সরকার সংসদকে এড়িয়ে আদালতের মাধ্যমে ফয়সালা করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। একদিকে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার প্রস্তাব পাঠাচ্ছে, যা ওই ৩০টি সংস্কার প্রস্তাবের অংশ; অন্যদিকে নিজের নির্দেশনায় পরোক্ষভাবে রিট করিয়ে সেটিকে চ্যালেঞ্জ করছে। এটাই হলো দ্বিচারিতা।”

এর আগে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন। এছাড়া, সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত সপ্তাহে রিট দায়ের করেন আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম। উভয় রিটকারীই বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত।