ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বেরোবিতে প্রো-ভিসি, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রারের বাসভবন-গেস্ট হাউজ নির্মাণকাজ উদ্বোধন বাগাতিপাড়ায় পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার ৪ বোন ও ২ ভাবি ফুলপুরে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার, অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার ৩ নারী থেকে পুরুষ হওয়ার চেষ্টা, স্তন অপারেশনের পর যুবতীর মৃত্যু প্রতারণা মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন বিদিশা ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদে দুই দাবি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিমের রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হিসাব জানালেন অর্থমন্ত্রী জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তরই বর্তমান সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ- স্পিকার একদিনে ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু, নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি ১৫৫৮

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ, নারীর নিরাপত্তাই বড় চ্যালেঞ্জ

সংগৃহীত ছবি।

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের একাধিক ঘটনার কারণে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।”

সম্প্রতি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। পাহাড়ি একটি রাস্তা দিয়ে গলা কাটা অবস্থায় হেঁটে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায়, ইরা নামের আট বছর বয়সী ওই শিশুকে স্থানীয় শ্রমিকরা উদ্ধার করেছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় বাবু শেখ নামের এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি নয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতার ঘটনা সামনে আসছে। গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঈদের কাপড় কিনতে গিয়ে চার সন্তানের এক মা ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগও সম্প্রতি আলোচনায় আসে।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই নারী ও শিশু নির্যাতনের ২৫৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে ৩৩টি এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা পাঁচটি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। গত পাঁচ বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে এ ধরনের মামলার সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৫৭১টি, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৪৩১টিতে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রায় ১১ মাসে দুই হাজার ৬৪৯ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায়ও সরকার নারীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের অপরাধ কমানো কঠিন হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধূরী বলেন, নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে অনেক সময় সামাজিক অস্থিরতা দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার চেয়ে সামাজিক অস্থিরতা বেশি চোখে পড়ছে। বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

তিনি বলেন, এসব ঘটনার পেছনে মাদকের বিস্তার বড় একটি কারণ। অনেক অপরাধী মাদকাসক্ত। এ ছাড়া স্থানীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের ধারণাও অনেককে অপরাধে উৎসাহিত করে। তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক বলেন, নারীকে ভোগ্যবস্তু হিসেবে দেখার মানসিকতা বদলানো জরুরি। শুধু নারীদের শিক্ষা নয়, পুরুষদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই শেখাতে হবে যে নারী কোনো ভোগ্যবস্তু নয়, বরং সমাজের সমান মর্যাদার সদস্য। সরকার, পরিবার এবং সমাজ—সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগেই নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

বেরোবিতে প্রো-ভিসি, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রারের বাসভবন-গেস্ট হাউজ নির্মাণকাজ উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ, নারীর নিরাপত্তাই বড় চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:১৮:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের একাধিক ঘটনার কারণে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।”

সম্প্রতি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। পাহাড়ি একটি রাস্তা দিয়ে গলা কাটা অবস্থায় হেঁটে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায়, ইরা নামের আট বছর বয়সী ওই শিশুকে স্থানীয় শ্রমিকরা উদ্ধার করেছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় বাবু শেখ নামের এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি নয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতার ঘটনা সামনে আসছে। গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঈদের কাপড় কিনতে গিয়ে চার সন্তানের এক মা ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগও সম্প্রতি আলোচনায় আসে।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই নারী ও শিশু নির্যাতনের ২৫৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে ৩৩টি এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা পাঁচটি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। গত পাঁচ বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে এ ধরনের মামলার সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৫৭১টি, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৪৩১টিতে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রায় ১১ মাসে দুই হাজার ৬৪৯ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায়ও সরকার নারীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের অপরাধ কমানো কঠিন হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধূরী বলেন, নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে অনেক সময় সামাজিক অস্থিরতা দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার চেয়ে সামাজিক অস্থিরতা বেশি চোখে পড়ছে। বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

তিনি বলেন, এসব ঘটনার পেছনে মাদকের বিস্তার বড় একটি কারণ। অনেক অপরাধী মাদকাসক্ত। এ ছাড়া স্থানীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের ধারণাও অনেককে অপরাধে উৎসাহিত করে। তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক বলেন, নারীকে ভোগ্যবস্তু হিসেবে দেখার মানসিকতা বদলানো জরুরি। শুধু নারীদের শিক্ষা নয়, পুরুষদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই শেখাতে হবে যে নারী কোনো ভোগ্যবস্তু নয়, বরং সমাজের সমান মর্যাদার সদস্য। সরকার, পরিবার এবং সমাজ—সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগেই নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।