ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি যে ছয় সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ইসির প্রজ্ঞাপন জারি বিএনপির নতুন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জাল প্রত্যয়নপত্রে জামিনে বেরিয়ে গেলেন মাদক কারবারি- বিএনপির কর্মী পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন গোদাগাড়ীতে ১৪০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা ময়মনসিংহে ডিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৫ নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে নোবিপ্রবি উপাচার্যের অভিনন্দন বার্তা বাগাতিপাড়ায় ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নোবিপ্রবি রোভার স্কাউট গ্রুপে সিনিয়র রোভার মেট ইউসুফ, গার্লস ইন সিনিয়র রোভার মেট ইন্না নির্বাচিত জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন

“সংসদকে যুক্তি-তর্ক ও সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই”প্রধানমন্ত্রী

সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সংগৃহীত ছবি

 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার পরিবর্তে অকার্যকর করে ফেলেছিল। তিনি জানান, “আমরা এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।”

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ নেতা ও বৈঠকের সভাপতির নাম প্রস্তাব করার সময় এ কথা বলেন। প্রথমবারের মতো সংসদে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সংসদের প্রথম বৈঠকের সভাপতিত্বের জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে আজ থেকে আবারও কাঙ্খিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা চাই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার রাজনীতি দেশের ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি। এই লক্ষ্য অর্জনে আমি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই।”

তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের দল বা মত বা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাবেদার মুক্ত, ফ্যাসিবাদ মুক্ত, স্বাধীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না।”

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে অতীতের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংগ্রামের স্মৃতিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজ থেকে পুনরায় গণতান্ত্রিক সংসদীয় যাত্রা শুরু হচ্ছে। যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, নির্যাতন বা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন—তাদেরকে আমরা স্মরণ করি।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, “জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। তার সাফল্য আজকের এই সংবর্ধনা ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারে অনুপ্রেরণা জুগাচ্ছে।”

রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিনি বলেছিলেন, জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, আমি সেই দলেরই আছি। ব্যক্তিগত বা দলগত স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সর্বোচ্চ। এটাই বিএনপির রাজনীতি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “নতুন সরকার যাত্রার শুরুতে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত না থাকার বিষয়টি বোঝার যোগ্য। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ও তাবেদারি শাসনের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আজকের বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এ ধরনের নজিরবিহীন ঘটনা নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানও এই ধরনের প্রেক্ষাপটে বৈঠকের সভাপতির নাম প্রস্তাব করেছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় নতুন গণতান্ত্রিক সংসদকে কার্যকর, সকল দলের সমর্থন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করে দেশের সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক মূলনীতিকে অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি যে ছয় সংসদ সদস্য

“সংসদকে যুক্তি-তর্ক ও সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই”প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময়ঃ ০২:৩৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার পরিবর্তে অকার্যকর করে ফেলেছিল। তিনি জানান, “আমরা এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।”

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ নেতা ও বৈঠকের সভাপতির নাম প্রস্তাব করার সময় এ কথা বলেন। প্রথমবারের মতো সংসদে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সংসদের প্রথম বৈঠকের সভাপতিত্বের জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে আজ থেকে আবারও কাঙ্খিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা চাই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার রাজনীতি দেশের ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি। এই লক্ষ্য অর্জনে আমি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই।”

তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের দল বা মত বা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাবেদার মুক্ত, ফ্যাসিবাদ মুক্ত, স্বাধীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না।”

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে অতীতের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংগ্রামের স্মৃতিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজ থেকে পুনরায় গণতান্ত্রিক সংসদীয় যাত্রা শুরু হচ্ছে। যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, নির্যাতন বা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন—তাদেরকে আমরা স্মরণ করি।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, “জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। তার সাফল্য আজকের এই সংবর্ধনা ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারে অনুপ্রেরণা জুগাচ্ছে।”

রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিনি বলেছিলেন, জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, আমি সেই দলেরই আছি। ব্যক্তিগত বা দলগত স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সর্বোচ্চ। এটাই বিএনপির রাজনীতি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “নতুন সরকার যাত্রার শুরুতে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত না থাকার বিষয়টি বোঝার যোগ্য। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ও তাবেদারি শাসনের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আজকের বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এ ধরনের নজিরবিহীন ঘটনা নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানও এই ধরনের প্রেক্ষাপটে বৈঠকের সভাপতির নাম প্রস্তাব করেছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় নতুন গণতান্ত্রিক সংসদকে কার্যকর, সকল দলের সমর্থন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করে দেশের সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক মূলনীতিকে অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্য।