ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

উলিপুরে শিক্ষকদের শ্রান্তি ভাতা বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা বণ্টনে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ভাতা বিতরণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং শিক্ষা অফিসের এক সাবেক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক অসঙ্গতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একাধিক শিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষক সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে প্রায় এক কোটি টাকার ভাতা বরাদ্দ থাকলেও তা যথাযথভাবে বিতরণ হয়নি। বরং বরাদ্দের একটি অংশ ফেরত পাঠানো হয়। পরবর্তী অর্থবছরে পুনরায় বরাদ্দ এলেও বণ্টনে অসংগতি দেখা দেয়। কোথাও বেশি, কোথাও কম, আবার কোনো ক্ষেত্রে একই ব্যক্তিকে একাধিকবার ভাতা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া একই তারিখে ভিন্ন স্মারকে বড় অঙ্কের বিল পাস হলেও সংশ্লিষ্ট কিছু নথির অসঙ্গতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে কিছু শিক্ষকের ক্ষেত্রে দ্বৈত ভাতা প্রদান, আবার কারও ক্ষেত্রে প্রাপ্যতার তুলনায় কম পাওয়ার বিষয়ও উঠে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, একই স্মারক নম্বর ব্যবহার করে বিল প্রক্রিয়াকরণ অত্যন্ত সন্দেহজনক। তাদের দাবি, এতে অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা রয়েছে এবং অনেকেই প্রাপ্য ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুলে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান হয়ে থাকলে তা ফেরত নেওয়া হবে এবং যাদের কম দেওয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সমন্বয় করা হবে।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মূল দায়িত্ব শিক্ষা কর্মকর্তার ওপর বর্তায়। অন্যদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

উলিপুরে শিক্ষকদের শ্রান্তি ভাতা বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:০২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা বণ্টনে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ভাতা বিতরণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং শিক্ষা অফিসের এক সাবেক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক অসঙ্গতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একাধিক শিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষক সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে প্রায় এক কোটি টাকার ভাতা বরাদ্দ থাকলেও তা যথাযথভাবে বিতরণ হয়নি। বরং বরাদ্দের একটি অংশ ফেরত পাঠানো হয়। পরবর্তী অর্থবছরে পুনরায় বরাদ্দ এলেও বণ্টনে অসংগতি দেখা দেয়। কোথাও বেশি, কোথাও কম, আবার কোনো ক্ষেত্রে একই ব্যক্তিকে একাধিকবার ভাতা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া একই তারিখে ভিন্ন স্মারকে বড় অঙ্কের বিল পাস হলেও সংশ্লিষ্ট কিছু নথির অসঙ্গতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে কিছু শিক্ষকের ক্ষেত্রে দ্বৈত ভাতা প্রদান, আবার কারও ক্ষেত্রে প্রাপ্যতার তুলনায় কম পাওয়ার বিষয়ও উঠে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, একই স্মারক নম্বর ব্যবহার করে বিল প্রক্রিয়াকরণ অত্যন্ত সন্দেহজনক। তাদের দাবি, এতে অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা রয়েছে এবং অনেকেই প্রাপ্য ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুলে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান হয়ে থাকলে তা ফেরত নেওয়া হবে এবং যাদের কম দেওয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সমন্বয় করা হবে।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মূল দায়িত্ব শিক্ষা কর্মকর্তার ওপর বর্তায়। অন্যদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হন।