ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

মাদরাসার শিক্ষক থাকবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটিতে

সংগৃহীত ছবি।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই স্লিপ (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান) ও অন্যান্য বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটি অংশ বলছেন, এই অনিয়ম ঠেকাতে তারা অনেক সময় চেষ্টা করেও সফল হন না। এর জন্য বেশিরভাগ শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা দায়ী করছেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে থাকা অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে।

এ অবস্থায় অনেকেই কমিটি প্রথা বাতিলের দাবি তুললেও নতুন সরকার আগের মতোই কমিটির হাতেই আর্থিক ক্ষমতা রেখে নতুন নীতিমালা জারি করেছে। বরং এবার কমিটিতে কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এতে দুর্নীতি কমবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা।

প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষা উপকরণ ক্রয়, ক্ষুদ্র মেরামত, প্রাক-প্রাথমিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের অর্থ প্রায়ই অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। তাদের মতে, কমিটির হাতে অর্থনৈতিক ক্ষমতা না রেখে আলাদা পরিপত্র জারি করা হলে দুর্নীতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আলামিন বলেন, বিদ্যালয়ের অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের দায়িত্ব প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের হাতে থাকাই যুক্তিযুক্ত। তবে সেই হিসাব সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। অন্যদিকে, ম্যানেজিং কমিটির হাতে প্রশাসনিক তদারকি—যেমন শিক্ষক উপস্থিতি ও পাঠদান নিশ্চিত করার দায়িত্ব—থাকা উচিত।

এদিকে, সম্প্রতি জারি করা নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি সংক্রান্ত পূর্বের সব প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, কমিটির সদস্য সচিব থাকবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

কমিটিতে থাকবেন অভিভাবক প্রতিনিধি (পুরুষ ও মহিলা), একজন জমিদাতা বা তার উত্তরাধিকারী (যদি থাকেন), নিকটবর্তী মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা মাদরাসার একজন শিক্ষক, বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (ইউনিয়ন সদস্য বা কাউন্সিলর) এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বা সরকারি কর্মকর্তা।

মোট ১২ সদস্যের এই কমিটিতে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচিত হবেন সদস্যদের মধ্য থেকেই। সভাপতির জন্য ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তবে যোগ্য প্রার্থী না থাকলে মন্ত্রণালয় মনোনয়ন দিতে পারবে।

সব মিলিয়ে নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে প্রাথমিক শিক্ষায় স্বচ্ছতা বাড়বে নাকি পুরোনো অনিয়মই চলবে—এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

মাদরাসার শিক্ষক থাকবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটিতে

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৫৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই স্লিপ (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান) ও অন্যান্য বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটি অংশ বলছেন, এই অনিয়ম ঠেকাতে তারা অনেক সময় চেষ্টা করেও সফল হন না। এর জন্য বেশিরভাগ শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা দায়ী করছেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে থাকা অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে।

এ অবস্থায় অনেকেই কমিটি প্রথা বাতিলের দাবি তুললেও নতুন সরকার আগের মতোই কমিটির হাতেই আর্থিক ক্ষমতা রেখে নতুন নীতিমালা জারি করেছে। বরং এবার কমিটিতে কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এতে দুর্নীতি কমবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা।

প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষা উপকরণ ক্রয়, ক্ষুদ্র মেরামত, প্রাক-প্রাথমিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের অর্থ প্রায়ই অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। তাদের মতে, কমিটির হাতে অর্থনৈতিক ক্ষমতা না রেখে আলাদা পরিপত্র জারি করা হলে দুর্নীতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আলামিন বলেন, বিদ্যালয়ের অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের দায়িত্ব প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের হাতে থাকাই যুক্তিযুক্ত। তবে সেই হিসাব সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। অন্যদিকে, ম্যানেজিং কমিটির হাতে প্রশাসনিক তদারকি—যেমন শিক্ষক উপস্থিতি ও পাঠদান নিশ্চিত করার দায়িত্ব—থাকা উচিত।

এদিকে, সম্প্রতি জারি করা নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি সংক্রান্ত পূর্বের সব প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, কমিটির সদস্য সচিব থাকবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

কমিটিতে থাকবেন অভিভাবক প্রতিনিধি (পুরুষ ও মহিলা), একজন জমিদাতা বা তার উত্তরাধিকারী (যদি থাকেন), নিকটবর্তী মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা মাদরাসার একজন শিক্ষক, বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (ইউনিয়ন সদস্য বা কাউন্সিলর) এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বা সরকারি কর্মকর্তা।

মোট ১২ সদস্যের এই কমিটিতে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচিত হবেন সদস্যদের মধ্য থেকেই। সভাপতির জন্য ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তবে যোগ্য প্রার্থী না থাকলে মন্ত্রণালয় মনোনয়ন দিতে পারবে।

সব মিলিয়ে নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে প্রাথমিক শিক্ষায় স্বচ্ছতা বাড়বে নাকি পুরোনো অনিয়মই চলবে—এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।