কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে আনুমানিক ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
কাভার্ড ভ্যান থেকে উদ্ধার বিপুল ইয়াবা
কোস্ট গার্ড জানায়, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকা থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানে করে বড় একটি ইয়াবার চালান চট্টগ্রামের দিকে পাচারের পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নাফ নদী সংলগ্ন বড়ইতলী প্রধান সড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় একটি সন্দেহভাজন কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গাড়িটির পাটাতনের নিচে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বার থেকে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
নাফ নদীপথে আরেক চালান জব্দ
অন্যদিকে, মিয়ানমার থেকে নাফ নদী হয়ে ইয়াবার একটি চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করবে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ায়। শুক্রবার রাত প্রায় ২টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের গোলারচর সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় একটি সন্দেহজনক মাছ ধরার নৌকা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করলে তা আটক করা হয়।
পরবর্তীতে নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। এ সময় নৌকায় থাকা চারজন মাদক পাচারকারীকে আটক করা হয়।
আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন
কোস্ট গার্ড জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবা, পাচার কাজে ব্যবহৃত কাভার্ড ভ্যান ও ফিশিং বোট জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে আরও কঠোর নজরদারি চালানো হবে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 























