
দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তির খবর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে তিনটি জাহাজ ভিড়ছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ ইতোমধ্যে দেশের সমুদ্রসীমায় পৌঁছেছে, বাকি দুটি আগামী বুধবারের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বন্দর সূত্র জানায়, মোট তিনটি কার্গো জাহাজে করে এই এলএনজি দেশে আনা হচ্ছে, যার সম্মিলিত পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন।
এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ‘এইচএল পাফিন’ নামের ট্যাংকারটি ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি বহন করে ইতোমধ্যে বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়া উপকূলের কাছে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি বহনকারী ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও দুটি জাহাজ বর্তমানে নির্ধারিত রুটে অগ্রসর হচ্ছে। জাহাজ দুটি আগামী বুধবারের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিপুল পরিমাণ এলএনজি দেশে পৌঁছালে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তি ফিরবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এই আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজগুলো নিরাপদে বার্থিং ও আনলোডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করা এই এলএনজি রি-গ্যাসিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে যুক্ত করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ আরও স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এমন আমদানি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, নতুন এই তিনটি কার্গো দেশে পৌঁছালে জ্বালানি খাতে চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 























