ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ হাম উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ হাম উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত তিন মাসে জেলায় এই রোগে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ছয় শতাধিক শিশু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) জেলা হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হামসহ বিভিন্ন শিশুরোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। বর্তমানে হাম আক্রান্ত ৭২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, যাদের মধ্যে ছেলে ৩৯ জন এবং মেয়ে ৩৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে।

একই সময়ে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগে নতুন করে ১১০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ১৪৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাম ছাড়া অন্যান্য রোগে আরও প্রায় ১৭০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় অনেক শিশুকে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আইসোলেশন ব্যবস্থা ও জনবল সীমিত থাকায় সব রোগীকে আলাদা রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে হাসপাতালে আসা অন্য শিশুরাও সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছে। আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, বেশিরভাগ রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হলেও গুরুতর শ্বাসকষ্ট বা আইসিইউ প্রয়োজন হলে তাদের রাজশাহীতে পাঠানো হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অভিভাবকদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, সেবা ভালো পেলেও রোগীর চাপ অনেক বেশি। একাধিক অভিভাবক বলেন, শিশুদের জ্বর, খিচুনি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসতে হচ্ছে, তবে চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের শিশু বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, কয়েক মাস আগে অল্পসংখ্যক রোগী দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক শিশুর টিকা না নেওয়াও এর একটি বড় কারণ। বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। রোগটির জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।

তিনি আরও বলেন, হাম থেকে সেরে ওঠার পরও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দীর্ঘ সময় দুর্বল থাকে। তাই পুষ্টিকর খাবার ও বাড়তি যত্ন জরুরি। সংক্রমণ এড়াতে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। বর্তমানে মোট ভর্তি রোগীর বড় একটি অংশই শিশু, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হাম আক্রান্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে আলাদা আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, হাম ছাড়াও ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ হাম উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৫৭:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ হাম উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত তিন মাসে জেলায় এই রোগে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ছয় শতাধিক শিশু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) জেলা হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হামসহ বিভিন্ন শিশুরোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। বর্তমানে হাম আক্রান্ত ৭২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, যাদের মধ্যে ছেলে ৩৯ জন এবং মেয়ে ৩৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে।

একই সময়ে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগে নতুন করে ১১০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ১৪৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাম ছাড়া অন্যান্য রোগে আরও প্রায় ১৭০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় অনেক শিশুকে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আইসোলেশন ব্যবস্থা ও জনবল সীমিত থাকায় সব রোগীকে আলাদা রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে হাসপাতালে আসা অন্য শিশুরাও সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছে। আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, বেশিরভাগ রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হলেও গুরুতর শ্বাসকষ্ট বা আইসিইউ প্রয়োজন হলে তাদের রাজশাহীতে পাঠানো হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অভিভাবকদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, সেবা ভালো পেলেও রোগীর চাপ অনেক বেশি। একাধিক অভিভাবক বলেন, শিশুদের জ্বর, খিচুনি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসতে হচ্ছে, তবে চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের শিশু বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, কয়েক মাস আগে অল্পসংখ্যক রোগী দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক শিশুর টিকা না নেওয়াও এর একটি বড় কারণ। বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। রোগটির জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।

তিনি আরও বলেন, হাম থেকে সেরে ওঠার পরও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দীর্ঘ সময় দুর্বল থাকে। তাই পুষ্টিকর খাবার ও বাড়তি যত্ন জরুরি। সংক্রমণ এড়াতে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। বর্তমানে মোট ভর্তি রোগীর বড় একটি অংশই শিশু, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হাম আক্রান্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে আলাদা আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, হাম ছাড়াও ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।