ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক
শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঝরে পড়ছে স্বপ্ন, দিশেহারা আমচাষি

মঙ্গলবার বিকেলে জেলার শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র শিলাবৃষ্টি হয়।

হঠাৎ শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে আমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। বুধবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে জেলার শিবগঞ্জ ও সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানা তীব্র শিলাবৃষ্টিতে আম ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে করে মাথায় হাত পড়েছে হাজারো কৃষক ও আমচাষির।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলা। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই শিলাবৃষ্টিতে বড় আকারের শিলা—কোথাও কোথাও প্রায় ১০০ গ্রাম ওজনের—মাটিতে আছড়ে পড়ে। এতে আম গাছের গুঁটি ঝরে পড়া, ডালপালা ভেঙে যাওয়া এবং গাছের ছাল-পত্র ক্ষতবিক্ষত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আমচাষিরা জানান, এটি আমের গুটি আসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। ঠিক এই সময়ে এমন শিলাবৃষ্টি পুরো মৌসুমের সম্ভাবনাকেই অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিয়েছে। অনেক বাগানে মাটিতে পড়ে থাকা কাঁচা আমের স্তূপ এখন ক্ষতির নীরব সাক্ষী।

শুধু আম নয়, ক্ষেতের ধানও রেহাই পায়নি। শিলার আঘাতে ধানের শীষ নুয়ে পড়েছে, অনেক জমিতে গাছ ভেঙে পড়েছে। ফলে খাদ্যশস্য নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, “হঠাৎ এই শিলাবৃষ্টিতে আম ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনই নির্দিষ্ট করে ক্ষতির পরিমাণ বলা সম্ভব না, তবে ক্ষয়ক্ষতি কম নয়। টানা প্রায় ৯ মিনিট বড় বড় শিলা পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে।”

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ ইয়াছিন আলী জানান, জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে ভোলাহাট ছাড়া বাকি চার উপজেলাতেই কমবেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে মাঠ পর্যায়ে জরিপ চলছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

প্রকৃতির এই আকস্মিক আঘাতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। অনেকেই ধার-দেনা করে বাগান ও জমিতে বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন চোখের সামনে ফসল নষ্ট হতে দেখে তাদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা ও সহায়তা দেওয়া হোক, না হলে এই ধাক্কা সামলে ওঠা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঝরে পড়ছে স্বপ্ন, দিশেহারা আমচাষি

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৫৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

হঠাৎ শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে আমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। বুধবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে জেলার শিবগঞ্জ ও সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানা তীব্র শিলাবৃষ্টিতে আম ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে করে মাথায় হাত পড়েছে হাজারো কৃষক ও আমচাষির।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলা। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই শিলাবৃষ্টিতে বড় আকারের শিলা—কোথাও কোথাও প্রায় ১০০ গ্রাম ওজনের—মাটিতে আছড়ে পড়ে। এতে আম গাছের গুঁটি ঝরে পড়া, ডালপালা ভেঙে যাওয়া এবং গাছের ছাল-পত্র ক্ষতবিক্ষত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আমচাষিরা জানান, এটি আমের গুটি আসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। ঠিক এই সময়ে এমন শিলাবৃষ্টি পুরো মৌসুমের সম্ভাবনাকেই অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিয়েছে। অনেক বাগানে মাটিতে পড়ে থাকা কাঁচা আমের স্তূপ এখন ক্ষতির নীরব সাক্ষী।

শুধু আম নয়, ক্ষেতের ধানও রেহাই পায়নি। শিলার আঘাতে ধানের শীষ নুয়ে পড়েছে, অনেক জমিতে গাছ ভেঙে পড়েছে। ফলে খাদ্যশস্য নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, “হঠাৎ এই শিলাবৃষ্টিতে আম ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনই নির্দিষ্ট করে ক্ষতির পরিমাণ বলা সম্ভব না, তবে ক্ষয়ক্ষতি কম নয়। টানা প্রায় ৯ মিনিট বড় বড় শিলা পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে।”

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ ইয়াছিন আলী জানান, জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে ভোলাহাট ছাড়া বাকি চার উপজেলাতেই কমবেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে মাঠ পর্যায়ে জরিপ চলছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

প্রকৃতির এই আকস্মিক আঘাতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। অনেকেই ধার-দেনা করে বাগান ও জমিতে বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন চোখের সামনে ফসল নষ্ট হতে দেখে তাদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা ও সহায়তা দেওয়া হোক, না হলে এই ধাক্কা সামলে ওঠা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে।