
জাতীয় সংসদে সার সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে তুমুল আলোচনা ও উত্তেজনার মধ্যেই পুরনো ডিলারদের পরিবর্তে নতুন ডিলার নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্যে বিরল ঐকমত্য লক্ষ্য করা যায়।
সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপন করেন ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।
আলোচনার সময় সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া অনেক সার ডিলার এখনো বহাল রয়েছেন এবং তাদের একটি অংশ বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সংসদের অধিকাংশ সদস্য এ বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন।
তিনি জানান,“যদি পুরো সংসদের সম্মতি থাকে, তাহলে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”তিনি আরও বলেন, কৃষিখাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া কিছু ডিলার ইচ্ছাকৃতভাবে সার উত্তোলন না করে বাজারে সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরনো ডিলারশিপ বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ডিলার নিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্যে সংসদের অধিকাংশ সদস্য টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন জানান।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেন, সার সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বাধা সহ্য করা হবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন,যে কোনো ডিলার—তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক—যদি অনিয়মে জড়িত থাকে, তবে তার লাইসেন্স বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংসদ সদস্যরা মনে করছেন, সার সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং কৃষকদের কাছে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সার পৌঁছাতে হলে নতুন ডিলার নিয়োগ প্রয়োজন।
তাদের মতে, পুরনো বিতর্কিত ডিলারদের বাদ দিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুললে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সহজ হবে।
সংসদের সর্বসম্মত অবস্থানের পর এখন সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে কৃষি সংশ্লিষ্টরা।বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে সার সংকট নিরসনের পাশাপাশি কৃষকদের আস্থাও ফিরে আসতে পারে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 






















