ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

কার্ড দিয়ে জনমত ভোলানোর চেষ্টা, ‘জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে’-নাহিদ

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে জনগণের মন জয় করার চেষ্টা করছে দলটি, কিন্তু “এসব কার্ড দিতে গিয়েই তাদের তেল-জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে।”

শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার পক্ষ সংসদে জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করলেও বাস্তবে দেশের মানুষ ভিন্ন চিত্র দেখছে। তার ভাষায়, “মন্ত্রীরা বাস্তব সমস্যাকে অস্বীকার করছেন। অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি সংকট—সব কিছুই তারা এড়িয়ে যেতে চাইছেন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলেও সেটিও সরকার স্বীকার করছে না।

বিরোধীদলীয় হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থে বিরোধী দল হিসেবে তারা সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিলেন, তবে বর্তমান সরকার সেই সুযোগ দিচ্ছে না। তার দাবি, “মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সরকার যেভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল।”

রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা কোনো অস্থিতিশীলতা চান না। তবে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

তিনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ পরিবর্তনের যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা বাস্তবায়নে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সেই সংস্কার প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকভাবে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঐকমত্য কমিশনে যোগ দিয়েও বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে বারবার ভিন্নমত দিয়েছে। পরে গণভোটে সম্মতি দিলেও নির্বাচনের পর তা অস্বীকার করা শুরু করেছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “যে দলটি গণভোটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তারাই এখন গণভোটকে অস্বীকার করছে—এটি তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের পথে এগোচ্ছে, যা অতীতের শাসনামলের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত দেয়।

সবশেষে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি দেশকে আবারও স্বৈরাচারী পথে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ জনগণ তা প্রতিহত করবে এবং প্রয়োজনে রাজপথে নেমে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

কার্ড দিয়ে জনমত ভোলানোর চেষ্টা, ‘জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে’-নাহিদ

প্রকাশের সময়ঃ ০২:৪৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে জনগণের মন জয় করার চেষ্টা করছে দলটি, কিন্তু “এসব কার্ড দিতে গিয়েই তাদের তেল-জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে।”

শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার পক্ষ সংসদে জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করলেও বাস্তবে দেশের মানুষ ভিন্ন চিত্র দেখছে। তার ভাষায়, “মন্ত্রীরা বাস্তব সমস্যাকে অস্বীকার করছেন। অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি সংকট—সব কিছুই তারা এড়িয়ে যেতে চাইছেন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলেও সেটিও সরকার স্বীকার করছে না।

বিরোধীদলীয় হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থে বিরোধী দল হিসেবে তারা সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিলেন, তবে বর্তমান সরকার সেই সুযোগ দিচ্ছে না। তার দাবি, “মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সরকার যেভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল।”

রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা কোনো অস্থিতিশীলতা চান না। তবে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

তিনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ পরিবর্তনের যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা বাস্তবায়নে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সেই সংস্কার প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকভাবে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঐকমত্য কমিশনে যোগ দিয়েও বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে বারবার ভিন্নমত দিয়েছে। পরে গণভোটে সম্মতি দিলেও নির্বাচনের পর তা অস্বীকার করা শুরু করেছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “যে দলটি গণভোটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তারাই এখন গণভোটকে অস্বীকার করছে—এটি তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের পথে এগোচ্ছে, যা অতীতের শাসনামলের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত দেয়।

সবশেষে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি দেশকে আবারও স্বৈরাচারী পথে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ জনগণ তা প্রতিহত করবে এবং প্রয়োজনে রাজপথে নেমে আসবে।