
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের ভোটের কালির দাগ মুছে যাওয়ার আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার কথা রেখেছেন। তিনি বলেছিলেন ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করবেন। আমরা প্রায় এগারো লক্ষ কৃষকের দশ হাজার পর্যন্ত যাদের কৃষি ঋণ ছিল তাদের কৃষি ঋণ মুকুব করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের প্রোজেক্ট চালু করে প্রথম দিনে ৩৮ হাজার ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করেছি। আমরা বলেছিলাম ইমাম মুয়াজ্জিনের জন্য নির্ধারিত মাসিক ভাতা প্রদান করবো। ইমাম মোয়াজ্জিন, পুরোহিতদের ভাতার জন্য একটি পাইলট প্রজেক্ট চালু করেছি।”
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরামের উদ্যোগে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ‘কেমন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল চাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠিত বিশেষ ‘উন্নয়ন সংলাপ’এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি আমার সমস্ত চিন্তা, সময় ও শ্রম প্রথমত শৈলকূপা এবং দ্বিতীয়ত বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নে নিবেদন করতে চাই। ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অঞ্চলের উন্নয়ন করতে পারলে আমরা জাতীয় পর্যায়েও বড় অবদান রাখতে পারব বলে বিশ্বাস করি। এই অঞ্চলের রেললাইনের দাবিটি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে রয়েছে এবং পরিকল্পনা কমিশন থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্নের অংশ হলেও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব বিবেচনায় রেখে আমরা এগোচ্ছি। এছাড়া খুলনা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশা নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সড়ক মন্ত্রী তা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।”
তিনি আরো বলেন, “আমাদের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে, বিশেষ করে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য প্রতি জেলায় কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনে আমরা মনোনিবেশ করছি। মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলাকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। আমরা দোষারোপ ও হানাহানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই; সেজন্য বিদ্যুৎ ও বর্তমান সংকট নিরসনে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে দশ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যদিও এ মঞ্চে উপস্থিত অনেকের সাথে আমার আদর্শিক বা রাজনৈতিক মতবিরোধ আছে, কিন্তু এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের প্রশ্নে আমাদের চিন্তার ঐক্য রয়েছে। এই উন্নয়নের ঐক্যকে ধারণ করেই আমরা একে অন্যের সাথে হাত মিলিয়ে সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যেতে চাই।”
এসময় বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরামের সভাপতি ও সিনিয়র সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গেস্ট অব অনার ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সংসদ সদস্যবৃন্দ।
ইবি প্রতিনিধিঃ 





















