ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

নারী-শিশু নির্যাতন মামলায় বিচারপ্রাপ্তির চিত্র উদ্বেগজনক

শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারপ্রাপ্তির চিত্র নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মামলায় দণ্ডের হার অত্যন্ত কম—মাত্র ৩ শতাংশ। অন্যদিকে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা ও সমাধানের উপায়” শীর্ষক এ গবেষণার ফলাফল শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণাটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের ৩২টি জেলার ৪৬টি ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ৪ হাজার ৪০টি মামলার নথি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে মামলার সময়কাল, শুনানির সংখ্যা, সাক্ষ্যগ্রহণ, ফরেনসিক ও মেডিক্যাল প্রতিবেদনসহ বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।

আইন অনুযায়ী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব মামলা নিষ্পত্তির কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনেক দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। গবেষণায় দেখা যায়, একটি মামলা শেষ হতে গড়ে প্রায় ৩ বছর ৭ মাস সময় লাগছে, যা প্রায় ১ হাজার ৩৭০ দিনের সমান। এ সময়ে একটি মামলায় গড়ে প্রায় ২২ বার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

ফলাফলের বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, প্রায় ১০ শতাংশ মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে। এতে বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

গবেষণায় বিচার বিলম্ব ও কম দণ্ডের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাক্ষী ও অভিযোগকারীর অনুপস্থিতি, বারবার সময় নেওয়া, তদন্তের ধীরগতি, দুর্বল প্রমাণ উপস্থাপন, ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে বিলম্ব এবং কার্যকর সাক্ষী সুরক্ষার অভাব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব সীমাবদ্ধতা দূর করা না গেলে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

নারী-শিশু নির্যাতন মামলায় বিচারপ্রাপ্তির চিত্র উদ্বেগজনক

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:১৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারপ্রাপ্তির চিত্র নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মামলায় দণ্ডের হার অত্যন্ত কম—মাত্র ৩ শতাংশ। অন্যদিকে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা ও সমাধানের উপায়” শীর্ষক এ গবেষণার ফলাফল শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণাটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের ৩২টি জেলার ৪৬টি ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ৪ হাজার ৪০টি মামলার নথি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে মামলার সময়কাল, শুনানির সংখ্যা, সাক্ষ্যগ্রহণ, ফরেনসিক ও মেডিক্যাল প্রতিবেদনসহ বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।

আইন অনুযায়ী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব মামলা নিষ্পত্তির কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনেক দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। গবেষণায় দেখা যায়, একটি মামলা শেষ হতে গড়ে প্রায় ৩ বছর ৭ মাস সময় লাগছে, যা প্রায় ১ হাজার ৩৭০ দিনের সমান। এ সময়ে একটি মামলায় গড়ে প্রায় ২২ বার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

ফলাফলের বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, প্রায় ১০ শতাংশ মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে। এতে বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

গবেষণায় বিচার বিলম্ব ও কম দণ্ডের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাক্ষী ও অভিযোগকারীর অনুপস্থিতি, বারবার সময় নেওয়া, তদন্তের ধীরগতি, দুর্বল প্রমাণ উপস্থাপন, ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে বিলম্ব এবং কার্যকর সাক্ষী সুরক্ষার অভাব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব সীমাবদ্ধতা দূর করা না গেলে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।