ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ময়মনসিংহে পশু চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১ ভেটেরিনারি চিকিৎসকের ওপর হামলা, প্রতিবাদে বন্ধ থাকবে ক্লিনিক ডা. নাদিম সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ছেলেদের বিদেশ পাঠাতে ঋণ, কিস্তির চাপে ভৈরবে গৃহবধূর মৃত্যু অভয়নগরে ৩ জন আটক, ওয়ান শুটারগান-গুলি ও ৩ মোটরসাইকেল জব্দ বিডা-বেজা-পিপিপিএ একীভূত, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ ঢাকার কয়েকটি দূতাবাসে ই-মেইলে হুমকি, তদন্ত করছে সিটিটিসি তাহিরপুরে বৌলাই নদীতে পড়ে নিখোঁজ শিশু পর্যটক রুকাইয়ার মরদেহ উদ্ধার কলকাতায় হোটেলে আগুনে নিহত সাভারের বাবুর দাফন সম্পন্ন ময়মনসিংহে চাঁদা দাবির অভিযোগে পশু চিকিৎসককে মারধর-ভাঙচুর, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

নারী-শিশু নির্যাতন মামলায় বিচারপ্রাপ্তির চিত্র উদ্বেগজনক

শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারপ্রাপ্তির চিত্র নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মামলায় দণ্ডের হার অত্যন্ত কম—মাত্র ৩ শতাংশ। অন্যদিকে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা ও সমাধানের উপায়” শীর্ষক এ গবেষণার ফলাফল শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণাটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের ৩২টি জেলার ৪৬টি ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ৪ হাজার ৪০টি মামলার নথি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে মামলার সময়কাল, শুনানির সংখ্যা, সাক্ষ্যগ্রহণ, ফরেনসিক ও মেডিক্যাল প্রতিবেদনসহ বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।

আইন অনুযায়ী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব মামলা নিষ্পত্তির কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনেক দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। গবেষণায় দেখা যায়, একটি মামলা শেষ হতে গড়ে প্রায় ৩ বছর ৭ মাস সময় লাগছে, যা প্রায় ১ হাজার ৩৭০ দিনের সমান। এ সময়ে একটি মামলায় গড়ে প্রায় ২২ বার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

ফলাফলের বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, প্রায় ১০ শতাংশ মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে। এতে বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

গবেষণায় বিচার বিলম্ব ও কম দণ্ডের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাক্ষী ও অভিযোগকারীর অনুপস্থিতি, বারবার সময় নেওয়া, তদন্তের ধীরগতি, দুর্বল প্রমাণ উপস্থাপন, ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে বিলম্ব এবং কার্যকর সাক্ষী সুরক্ষার অভাব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব সীমাবদ্ধতা দূর করা না গেলে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহে পশু চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

নারী-শিশু নির্যাতন মামলায় বিচারপ্রাপ্তির চিত্র উদ্বেগজনক

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:১৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারপ্রাপ্তির চিত্র নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মামলায় দণ্ডের হার অত্যন্ত কম—মাত্র ৩ শতাংশ। অন্যদিকে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা ও সমাধানের উপায়” শীর্ষক এ গবেষণার ফলাফল শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণাটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের ৩২টি জেলার ৪৬টি ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ৪ হাজার ৪০টি মামলার নথি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে মামলার সময়কাল, শুনানির সংখ্যা, সাক্ষ্যগ্রহণ, ফরেনসিক ও মেডিক্যাল প্রতিবেদনসহ বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।

আইন অনুযায়ী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব মামলা নিষ্পত্তির কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনেক দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। গবেষণায় দেখা যায়, একটি মামলা শেষ হতে গড়ে প্রায় ৩ বছর ৭ মাস সময় লাগছে, যা প্রায় ১ হাজার ৩৭০ দিনের সমান। এ সময়ে একটি মামলায় গড়ে প্রায় ২২ বার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

ফলাফলের বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, প্রায় ১০ শতাংশ মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে। এতে বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

গবেষণায় বিচার বিলম্ব ও কম দণ্ডের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাক্ষী ও অভিযোগকারীর অনুপস্থিতি, বারবার সময় নেওয়া, তদন্তের ধীরগতি, দুর্বল প্রমাণ উপস্থাপন, ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে বিলম্ব এবং কার্যকর সাক্ষী সুরক্ষার অভাব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব সীমাবদ্ধতা দূর করা না গেলে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।