ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক
স্বামীকে নিয়ে স্ত্রীর ‘ভাইরাল পোস্ট’

স্বামী ছাত্রদলে সহ-সভাপতি পদ পাওয়ায় খুশিতে ফেসবুকে স্ত্রীর পোস্ট

এই পোস্টকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় বইছে। ২ নম্বর সহ-সভাপতি পদে সজীব পাল জুম্মনের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তার স্ত্রীর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ১ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির স্বাক্ষরিত তালিকায় নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে ২ নম্বর সহ-সভাপতি হিসেবে সজীব পাল জুম্মনের নাম প্রকাশিত হয়।

কমিটি ঘোষণার পরপরই তার স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্বামীকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “প্রাণঢালা অভিনন্দন জামাই। নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের ২নং সহ-সভাপতি।” পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর ছবি ও কমিটির তালিকা শেয়ার করলে মুহূর্তেই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে পড়ে।

এই পোস্টকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকে মন্তব্য করছেন, ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিবাহিতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেউ কেউ কটাক্ষ করে লিখেছেন, “খুশির মুহূর্তে সত্য প্রকাশ হয়ে গেছে।”

অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কমিটিতে স্থান না পাওয়া ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই কমিটি ত্যাগী ও দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাদের মূল্যায়ন করেনি।

পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের দাবি, কমিটিতে আন্দোলনের মাঠে থাকা অনেক সক্রিয় কর্মীকে বাদ দিয়ে প্রবাসে অবস্থানরত এবং রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদেরও স্থান দেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের ন্যায্যতা ও ত্যাগের রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মাঈনউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, আন্দোলনের মাঠে থাকা শেষ সারির কর্মীকেও মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু এই কমিটিতে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে প্রবাসে থাকা ব্যক্তিদেরও পদ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে যে মাত্রায় আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা কমিটির গ্রহণযোগ্যতা ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চলছে তীব্র ট্রল, সমালোচনা ও পক্ষ-বিপক্ষের অবস্থান, যা নরসিংদীর ছাত্ররাজনীতিকে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

স্বামীকে নিয়ে স্ত্রীর ‘ভাইরাল পোস্ট’

স্বামী ছাত্রদলে সহ-সভাপতি পদ পাওয়ায় খুশিতে ফেসবুকে স্ত্রীর পোস্ট

প্রকাশের সময়ঃ ০২:০২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় বইছে। ২ নম্বর সহ-সভাপতি পদে সজীব পাল জুম্মনের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তার স্ত্রীর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ১ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির স্বাক্ষরিত তালিকায় নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে ২ নম্বর সহ-সভাপতি হিসেবে সজীব পাল জুম্মনের নাম প্রকাশিত হয়।

কমিটি ঘোষণার পরপরই তার স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্বামীকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “প্রাণঢালা অভিনন্দন জামাই। নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের ২নং সহ-সভাপতি।” পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর ছবি ও কমিটির তালিকা শেয়ার করলে মুহূর্তেই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে পড়ে।

এই পোস্টকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকে মন্তব্য করছেন, ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিবাহিতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেউ কেউ কটাক্ষ করে লিখেছেন, “খুশির মুহূর্তে সত্য প্রকাশ হয়ে গেছে।”

অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কমিটিতে স্থান না পাওয়া ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই কমিটি ত্যাগী ও দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাদের মূল্যায়ন করেনি।

পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের দাবি, কমিটিতে আন্দোলনের মাঠে থাকা অনেক সক্রিয় কর্মীকে বাদ দিয়ে প্রবাসে অবস্থানরত এবং রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদেরও স্থান দেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের ন্যায্যতা ও ত্যাগের রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মাঈনউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, আন্দোলনের মাঠে থাকা শেষ সারির কর্মীকেও মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু এই কমিটিতে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে প্রবাসে থাকা ব্যক্তিদেরও পদ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে যে মাত্রায় আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা কমিটির গ্রহণযোগ্যতা ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চলছে তীব্র ট্রল, সমালোচনা ও পক্ষ-বিপক্ষের অবস্থান, যা নরসিংদীর ছাত্ররাজনীতিকে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।