ঢাকা ০২:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
“আর কত অপেক্ষা?”

হিটু শেখের ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের দাবি পরিবারের

মাগুরার আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কার্যকর হয়নি প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড। ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির রায় হলেও মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আর সেই অপেক্ষার প্রহর যেন শেষই হচ্ছে না নিহত শিশুটির পরিবারের জন্য।

স্বজন হারানোর শোক, দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বের ভার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন শিশুটির মা। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে তিনি বলেন, “আমাদের আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই। সবাই অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু এখন কেউ খোঁজও নেয় না। আমি শুধু চাই, আমার মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি দ্রুত কার্যকর হোক।”

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের ওই শিশুটি ছিল তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গত বছরের ৫ মার্চ এক স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয় সে। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতাল, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সর্বশেষ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। কিন্তু মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানে নিষ্পাপ শিশুটি।

ঘটনার পর শিশুটির মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

গত বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে অন্য তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছিল।

তবে রায়ের পরও এখনও কার্যকর হয়নি দণ্ড। হিটু শেখের পক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করায় মামলাটি এখন বিচারাধীন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল রায় বলেন, “আমরা আশা করছি দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি হবে এবং ফাঁসির রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।”

এদিকে বিচার বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও। মাগুরা জেলা গণকমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী শম্পা বসু বলেন, “শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকলে অপরাধীরা উৎসাহ পায়। দ্রুত বিচার না হওয়ায় দেশে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, “হিটু শেখের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর হলে সেটি সারাদেশে একটি কঠোর বার্তা দেবে। এতে শিশু নির্যাতনকারীদের মধ্যে ভয় তৈরি হবে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর পর পুরো দেশ নড়ে উঠেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আলোচিত ঘটনা চাপা পড়ে গেলেও শিশুটির পরিবারের কান্না থামেনি। আজও তারা অপেক্ষা করছেন—কবে কার্যকর হবে আদালতের রায়, কবে মিলবে প্রকৃত বিচার।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

“আর কত অপেক্ষা?”

হিটু শেখের ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের দাবি পরিবারের

প্রকাশের সময়ঃ ০২:১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

মাগুরার আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কার্যকর হয়নি প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড। ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির রায় হলেও মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আর সেই অপেক্ষার প্রহর যেন শেষই হচ্ছে না নিহত শিশুটির পরিবারের জন্য।

স্বজন হারানোর শোক, দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বের ভার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন শিশুটির মা। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে তিনি বলেন, “আমাদের আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই। সবাই অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু এখন কেউ খোঁজও নেয় না। আমি শুধু চাই, আমার মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি দ্রুত কার্যকর হোক।”

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের ওই শিশুটি ছিল তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গত বছরের ৫ মার্চ এক স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয় সে। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতাল, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সর্বশেষ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। কিন্তু মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানে নিষ্পাপ শিশুটি।

ঘটনার পর শিশুটির মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

গত বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে অন্য তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছিল।

তবে রায়ের পরও এখনও কার্যকর হয়নি দণ্ড। হিটু শেখের পক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করায় মামলাটি এখন বিচারাধীন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল রায় বলেন, “আমরা আশা করছি দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি হবে এবং ফাঁসির রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।”

এদিকে বিচার বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও। মাগুরা জেলা গণকমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী শম্পা বসু বলেন, “শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকলে অপরাধীরা উৎসাহ পায়। দ্রুত বিচার না হওয়ায় দেশে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, “হিটু শেখের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর হলে সেটি সারাদেশে একটি কঠোর বার্তা দেবে। এতে শিশু নির্যাতনকারীদের মধ্যে ভয় তৈরি হবে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর পর পুরো দেশ নড়ে উঠেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আলোচিত ঘটনা চাপা পড়ে গেলেও শিশুটির পরিবারের কান্না থামেনি। আজও তারা অপেক্ষা করছেন—কবে কার্যকর হবে আদালতের রায়, কবে মিলবে প্রকৃত বিচার।