
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজশাহীর রাজপথে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি এবং সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে শুক্রবার নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
জুম্মার নামাজের পর নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাটার মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় “রামিসার হত্যার বিচার চাই”, “ধর্ষকের ফাঁসি চাই”, “অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করো”—এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিশু রামিসাকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা মানবতাকেও হার মানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্বলতার কারণে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সমাজে ধর্ষণ ও সহিংসতার মতো অপরাধ বাড়ছে।
বক্তারা আরও বলেন, অপরাধ দমনে কঠোর ও কার্যকর বিচার ব্যবস্থা ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে রামিসা হত্যার বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক বিচার ব্যবস্থা কার্যকরেরও আহ্বান জানানো হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির, কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন, প্রকাশনা সম্পাদক নাজির আহমেদ সুপ্ত, দপ্তর সম্পাদক মো. জহির রায়হান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মাসুমসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
একই সময়ে নগরীর জিরোপয়েন্ট এলাকায় পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। সংগঠনটির নেতারা রামিসা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, ধর্ষণ ও শিশু হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। বিক্ষোভকে ঘিরে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ 



















