
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। জাতীয় ঈদগাহসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঈদ জামাতগুলোকে ঘিরে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ঈদের দিন পুরো মহানগরীতে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদের জামাতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণ এবং একই সময়ে অনেক মানুষ রাজধানী ছেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররমসহ গুরুত্বপূর্ণ জামাতগুলোতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিদেশি কূটনীতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। এ কারণে নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশের জন্য পাঁচটি গেট রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি গেটে কঠোর তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, পুরো ঈদগাহ এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথ থেকেও নজরদারি চালানো হবে। প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। এছাড়া ওয়াচ টাওয়ার, ব্যারিকেড ও পিকেটিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রমে সুইপিং টিম, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের ডগ স্কোয়াড এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি সোয়াট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটও প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নারী মুসল্লিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও পৃথক নামাজের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদের দিন সকাল ৬টা থেকে নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। মুসল্লিদের নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্ক করে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।
পুলিশের পক্ষ থেকে মুসল্লিদের কেবল জায়নামাজ ও প্রয়োজন হলে ছাতা সঙ্গে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাগ, ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ বহন না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া বাসাবাড়ি, ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিং মল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। মোবাইল টহল, ফুট পেট্রোল ও মোটরসাইকেল পেট্রোল বাড়ানোর পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক প্রচারণা ঠেকাতে সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 





















