ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জোড়া পদ্মপুকুরে বিরল জল ময়ূরের দেখা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জোড়া পদ্মপুকুরে পদ্মপাতার ওপর বিচরণরত বিরল জলচর পাখি জল ময়ূর।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মহানন্দা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জেলা মডেল মসজিদের বিপরীতে অবস্থিত জোড়া পদ্মপুকুরে দেখা মিলেছে বাংলাদেশের বিরল জলচর পাখি জল ময়ূর (Pheasant-tailed Jacana)। কয়েকদিন ধরে পুকুরের ভাসমান পদ্মপাতার ওপর ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন এই পাখিটিকে। এর উপস্থিতি স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী, পাখিপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকা জোড়া পদ্মপুকুরে এ ধরনের বিরল পাখির আগমন প্রমাণ করে, সঠিক সংরক্ষণ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এটি ভবিষ্যতে জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থলে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি পাখি পর্যবেক্ষণ ও প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটনেরও সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে অনেকেই পুকুরটিকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে পুকুরের পানি ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, যা জলজ প্রাণী ও পাখিদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত পুকুর সংস্কার, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পাড় উন্নয়ন এবং বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ‘জোড়া পদ্মপুকুরকে পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করে যদি একটি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও ছোট পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি এটি জেলার একটি আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানেও পরিণত হতে পারে।’

জল ময়ূর সম্পর্কে যা জানা যায়

জল ময়ূর, যা নেউ, নেউপিপি, পদ্মপিপি বা মেওয়া নামেও পরিচিত, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি আকর্ষণীয় আবাসিক জলচর পাখি। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে এর লম্বা লেজ ও বর্ণিল পালক পাখিটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জল ময়ূর সাধারণত হাওর, বিল, হ্রদ, জলাভূমি ও মিঠাপানির পরিবেশে বসবাস করে। ভাসমান শাপলা ও পদ্মপাতার ওপর অনায়াসে হাঁটার বিশেষ ক্ষমতার জন্য পাখিটি পরিচিত। এদের প্রধান খাদ্য হলো জলজ উদ্ভিদের ওপর থাকা পোকামাকড়, অমেরুদণ্ডী প্রাণী, কচি পাতা ও বিভিন্ন বীজ।

প্রজনন মৌসুমে পুরুষ জল ময়ূর শাপলা বা পদ্মপাতার ওপর বাসা তৈরি করে। স্ত্রী পাখি ডিম পাড়ার পর সরে গেলে পুরুষ পাখিই প্রায় ২৩ থেকে ২৬ দিন ডিমে তা দেয় এবং বাচ্চা ফোটার পর তাদের পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করে।

সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জল ময়ূরসহ বিভিন্ন জলচর পাখির আবাসস্থল রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জোড়া পদ্মপুকুরকে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা গেলে এটি ভবিষ্যতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পাখি পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব বিনোদনের একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে জোড়া পদ্মপুকুরের পরিবেশ উন্নয়ন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এতে জল ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাস নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জেলার পরিবেশ ও পর্যটন সম্ভাবনাও নতুন মাত্রা পাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জোড়া পদ্মপুকুরে বিরল জল ময়ূরের দেখা

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:১৩:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মহানন্দা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জেলা মডেল মসজিদের বিপরীতে অবস্থিত জোড়া পদ্মপুকুরে দেখা মিলেছে বাংলাদেশের বিরল জলচর পাখি জল ময়ূর (Pheasant-tailed Jacana)। কয়েকদিন ধরে পুকুরের ভাসমান পদ্মপাতার ওপর ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন এই পাখিটিকে। এর উপস্থিতি স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী, পাখিপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকা জোড়া পদ্মপুকুরে এ ধরনের বিরল পাখির আগমন প্রমাণ করে, সঠিক সংরক্ষণ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এটি ভবিষ্যতে জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থলে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি পাখি পর্যবেক্ষণ ও প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটনেরও সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে অনেকেই পুকুরটিকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে পুকুরের পানি ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, যা জলজ প্রাণী ও পাখিদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত পুকুর সংস্কার, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পাড় উন্নয়ন এবং বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ‘জোড়া পদ্মপুকুরকে পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করে যদি একটি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও ছোট পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি এটি জেলার একটি আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানেও পরিণত হতে পারে।’

জল ময়ূর সম্পর্কে যা জানা যায়

জল ময়ূর, যা নেউ, নেউপিপি, পদ্মপিপি বা মেওয়া নামেও পরিচিত, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি আকর্ষণীয় আবাসিক জলচর পাখি। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে এর লম্বা লেজ ও বর্ণিল পালক পাখিটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জল ময়ূর সাধারণত হাওর, বিল, হ্রদ, জলাভূমি ও মিঠাপানির পরিবেশে বসবাস করে। ভাসমান শাপলা ও পদ্মপাতার ওপর অনায়াসে হাঁটার বিশেষ ক্ষমতার জন্য পাখিটি পরিচিত। এদের প্রধান খাদ্য হলো জলজ উদ্ভিদের ওপর থাকা পোকামাকড়, অমেরুদণ্ডী প্রাণী, কচি পাতা ও বিভিন্ন বীজ।

প্রজনন মৌসুমে পুরুষ জল ময়ূর শাপলা বা পদ্মপাতার ওপর বাসা তৈরি করে। স্ত্রী পাখি ডিম পাড়ার পর সরে গেলে পুরুষ পাখিই প্রায় ২৩ থেকে ২৬ দিন ডিমে তা দেয় এবং বাচ্চা ফোটার পর তাদের পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করে।

সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জল ময়ূরসহ বিভিন্ন জলচর পাখির আবাসস্থল রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জোড়া পদ্মপুকুরকে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা গেলে এটি ভবিষ্যতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পাখি পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব বিনোদনের একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে জোড়া পদ্মপুকুরের পরিবেশ উন্নয়ন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এতে জল ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাস নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জেলার পরিবেশ ও পর্যটন সম্ভাবনাও নতুন মাত্রা পাবে।