
কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে দপ্তরি ও বহিরাগত ব্যক্তিকে দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বুধবার (২৪ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (২৩ জুন) তাঁর স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি নোটিশের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়।
বিভাগীয় মামলার আসামিরা হলেন—সদর উপজেলার জোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুভাষ কুমার দাস, সহকারী শিক্ষক মো. আবু বাক্কর সিদ্দিকী এবং সহকারী শিক্ষক মো. নওয়াজ শরীফ।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, কোনো শিক্ষকই কর্মস্থলে উপস্থিত নেই। অথচ বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন দপ্তরি এবং একজন বহিরাগত ব্যক্তি, যিনি কার্যত ‘প্রক্সি শিক্ষক’ হিসেবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করাচ্ছিলেন।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন দায়িত্বহীন আচরণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা। শিক্ষা বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে প্রশাসন।
পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুভাষ কুমার দাস এবং সহকারী শিক্ষক আবু বাক্কর সিদ্দিকী সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক মো. নওয়াজ শরীফ নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে, বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন।
এ ঘটনায় সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দুই দফায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন। তবে তাঁদের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।
বিভাগীয় মামলার নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষকদের এই আচরণ ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণের শামিল।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত ও গত ১৪ জুনের সুপারিশের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,”অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাঁদের কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো প্রশাসনিক দণ্ড দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি সরকারি বিদ্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অনুপস্থিত থেকে বহিরাগত ও দপ্তরিকে দিয়ে পাঠদান করানো শুধু দায়িত্বে অবহেলাই নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অভিভাবকদের দাবি, এমন অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 


















