
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার দুর্লভ বই সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ লক্ষ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), রংপুরে তাঁর নামে একটি বিশেষ গ্রন্থ কর্নার বা পৃথক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে আবদুল হাই শিকদারের এক বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী, ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এটি কেবল একজন ব্যক্তির বইয়ের সংগ্রহ নয়; বরং দেশের জ্ঞান, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের মূল্যবান সম্পদ। তাই বইগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির মাধ্যমে গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের এ উদ্যোগ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও অনুসরণযোগ্য হতে পারে। ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণে ইউজিসি নীতিগত সহায়তা দিতে আগ্রহী।
ড. মামুন আহমেদ আরও বলেন, কেবল বই সংরক্ষণই যথেষ্ট নয়; মূল্যবান ও দুর্লভ গ্রন্থগুলো ডিজিটাল আর্কাইভেও সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাঠক ও গবেষকেরা সহজেই সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
আবদুল হাই শিকদার জানান, তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশ্ব ইতিহাস, গবেষণা, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ১০ হাজার বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই দ্রুত সংরক্ষণ না করলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক বই বর্তমানে বাজারে আর পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, সংগ্রহের একটি অংশ তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন এবং বাকি বই কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন। তাঁর ইচ্ছা, পুরো সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে এ সম্পদ ব্যবহার করতে পারেন।
ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর গ্রন্থাগারের উদাহরণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে একসময় সেই সংগ্রহের অনেক মূল্যবান বই হারিয়ে যায়, যা দেশের জ্ঞানভাণ্ডারের জন্য বড় ক্ষতি ছিল। এমন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
তিনি আরও জানান, শিক্ষাবিদ সৈয়দ আলী আহসান তাঁর ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেছিলেন। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই তিনি নিজের সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রংপুর বিভাগের সন্তান হিসেবে নিজের অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য এ সংগ্রহ উন্মুক্ত রাখতে চান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আবদুল হাই শিকদারের নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার আরও সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জুবায়ের আল হাসান ,বেরোবি প্রতিনিধিঃ 






















