ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ উপলক্ষে বেরোবি ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল আজ বিশ্ব ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দিবস, জেনে নিন নতুন কিছু স্বাদের রেসিপি দেশের ১৭ জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা, হতে পারে অতি ভারি বর্ষণ ১৩ উপজেলায় নতুন হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিল সরকার ছেলের কাঁধে মায়ের মরদেহ, একটি সেতুর অভাবে থামেনি গ্রামের কান্না চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে বিরোধীদলীয় নেতা চট্টগ্রামে চলমান দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ পদক্ষেপ গোমস্তাপুরে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান-আটক দুই পুরনো আইন দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, এমপি খায়ের ভূঁইয়া রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান
বুকসমান পানি পেরিয়ে শেষ বিদায়

ছেলের কাঁধে মায়ের মরদেহ, একটি সেতুর অভাবে থামেনি গ্রামের কান্না

ঠাকুরগাঁওয়ের ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে পানিবন্দি পথ অতিক্রম করে স্বজনদের মরদেহ বহনের দৃশ্য।

একজন সন্তানের জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর একটি—মায়ের মরদেহ কাঁধে নিয়ে শেষ বিদায় জানানো। আর সেই বিদায়ের পথ যদি হয় বুকসমান পানির মধ্য দিয়ে, তবে তা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বেদনার প্রতিচ্ছবি।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ফালডাঙ্গী গ্রামে এমনই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয়রা। টানা ভারি বর্ষণে তলিয়ে যাওয়া রাস্তায় বুকসমান পানি ভেঙে ছেলের কাঁধে মায়ের মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান ফালডাঙ্গী গ্রামের নুরুল ও মফিজউদ্দিনের ৮০ বছর বয়সী মা মফিজান বিবি। বিকেল ৩টায় জানাজার জন্য তাকে বকুয়া ইউনিয়নের রাজিউন রহমান হাফেজিয়া মাদরাসা মাঠে নেওয়া হয়। কিন্তু ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে কোনো সেতু না থাকায় স্বজনদের বুকসমান পানি পেরিয়ে মরদেহ বহন করতে হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় আড়াই কিলোমিটারের এই পথই কবরস্থানে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ রুট। বিকল্প পথে যেতে হলে আরও প্রায় ছয় কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়, যা মরদেহ নিয়ে অতিক্রম করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে এই দুর্ভোগের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতিটি নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে তা আর আলোর মুখ দেখে না।

তারা জানান, কয়েক দিন আগে নিজেদের অর্থ ও শ্রমে একটি অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করেছিলেন গ্রামের মানুষ। কিন্তু টানা মাত্র দুই দিনের বৃষ্টিতেই সেটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে আবারও আগের মতোই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এলাকা।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ এবং সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের ভাষায়, “অন্তত যেন আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের মরদেহ নিয়ে বুকসমান পানি পেরোতে না হয়।”

এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চন্দন কর বলেন, “মরদেহ দাফনের জন্য পানির মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিওটি আমিও দেখেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

ফালডাঙ্গীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—একটি সেতু। কারণ তাদের কাছে এটি শুধু যোগাযোগের অবকাঠামো নয়, এটি সম্মানজনক জীবনযাপন এবং মৃত্যুর পরও একজন মানুষকে মর্যাদার সঙ্গে শেষ বিদায় জানানোর অধিকার।

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ উপলক্ষে বেরোবি ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল

বুকসমান পানি পেরিয়ে শেষ বিদায়

ছেলের কাঁধে মায়ের মরদেহ, একটি সেতুর অভাবে থামেনি গ্রামের কান্না

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:২১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

একজন সন্তানের জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর একটি—মায়ের মরদেহ কাঁধে নিয়ে শেষ বিদায় জানানো। আর সেই বিদায়ের পথ যদি হয় বুকসমান পানির মধ্য দিয়ে, তবে তা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বেদনার প্রতিচ্ছবি।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ফালডাঙ্গী গ্রামে এমনই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয়রা। টানা ভারি বর্ষণে তলিয়ে যাওয়া রাস্তায় বুকসমান পানি ভেঙে ছেলের কাঁধে মায়ের মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান ফালডাঙ্গী গ্রামের নুরুল ও মফিজউদ্দিনের ৮০ বছর বয়সী মা মফিজান বিবি। বিকেল ৩টায় জানাজার জন্য তাকে বকুয়া ইউনিয়নের রাজিউন রহমান হাফেজিয়া মাদরাসা মাঠে নেওয়া হয়। কিন্তু ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে কোনো সেতু না থাকায় স্বজনদের বুকসমান পানি পেরিয়ে মরদেহ বহন করতে হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় আড়াই কিলোমিটারের এই পথই কবরস্থানে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ রুট। বিকল্প পথে যেতে হলে আরও প্রায় ছয় কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়, যা মরদেহ নিয়ে অতিক্রম করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে এই দুর্ভোগের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতিটি নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে তা আর আলোর মুখ দেখে না।

তারা জানান, কয়েক দিন আগে নিজেদের অর্থ ও শ্রমে একটি অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করেছিলেন গ্রামের মানুষ। কিন্তু টানা মাত্র দুই দিনের বৃষ্টিতেই সেটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে আবারও আগের মতোই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এলাকা।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ এবং সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের ভাষায়, “অন্তত যেন আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের মরদেহ নিয়ে বুকসমান পানি পেরোতে না হয়।”

এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চন্দন কর বলেন, “মরদেহ দাফনের জন্য পানির মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিওটি আমিও দেখেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

ফালডাঙ্গীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—একটি সেতু। কারণ তাদের কাছে এটি শুধু যোগাযোগের অবকাঠামো নয়, এটি সম্মানজনক জীবনযাপন এবং মৃত্যুর পরও একজন মানুষকে মর্যাদার সঙ্গে শেষ বিদায় জানানোর অধিকার।