ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
সারের কোনো সংকট নেই দেশে , সমস্যা বিতরণে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী গরমে ঠান্ডা স্বস্তি, ঘরেই সহজে বানান সুস্বাদু ডাবের পুডিং ফিফার সব নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলবদলে ফিরল বসুন্ধরা কিংস একসঙ্গে নিভল পাঁচ শিশুর প্রাণের প্রদীপ- পাশাপাশি কবরে শায়িত যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পালানো নারী আসামি কেরানীগঞ্জে আটক রংপুরে ৪ খুন-গাফিলতির কোন সুযোগ নেই, আশ্বাস নতুন পুলিশ কমিশনারের নেপালের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন- দেশে ফিরে অপু বিশ্বাস টঙ্গীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক ৩ গাজীপুরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ৫ পাইপগান ও সাড়ে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার
বুকসমান পানি পেরিয়ে শেষ বিদায়

ছেলের কাঁধে মায়ের মরদেহ, একটি সেতুর অভাবে থামেনি গ্রামের কান্না

ঠাকুরগাঁওয়ের ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে পানিবন্দি পথ অতিক্রম করে স্বজনদের মরদেহ বহনের দৃশ্য।

একজন সন্তানের জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর একটি—মায়ের মরদেহ কাঁধে নিয়ে শেষ বিদায় জানানো। আর সেই বিদায়ের পথ যদি হয় বুকসমান পানির মধ্য দিয়ে, তবে তা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বেদনার প্রতিচ্ছবি।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ফালডাঙ্গী গ্রামে এমনই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয়রা। টানা ভারি বর্ষণে তলিয়ে যাওয়া রাস্তায় বুকসমান পানি ভেঙে ছেলের কাঁধে মায়ের মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান ফালডাঙ্গী গ্রামের নুরুল ও মফিজউদ্দিনের ৮০ বছর বয়সী মা মফিজান বিবি। বিকেল ৩টায় জানাজার জন্য তাকে বকুয়া ইউনিয়নের রাজিউন রহমান হাফেজিয়া মাদরাসা মাঠে নেওয়া হয়। কিন্তু ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে কোনো সেতু না থাকায় স্বজনদের বুকসমান পানি পেরিয়ে মরদেহ বহন করতে হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় আড়াই কিলোমিটারের এই পথই কবরস্থানে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ রুট। বিকল্প পথে যেতে হলে আরও প্রায় ছয় কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়, যা মরদেহ নিয়ে অতিক্রম করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে এই দুর্ভোগের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতিটি নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে তা আর আলোর মুখ দেখে না।

তারা জানান, কয়েক দিন আগে নিজেদের অর্থ ও শ্রমে একটি অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করেছিলেন গ্রামের মানুষ। কিন্তু টানা মাত্র দুই দিনের বৃষ্টিতেই সেটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে আবারও আগের মতোই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এলাকা।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ এবং সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের ভাষায়, “অন্তত যেন আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের মরদেহ নিয়ে বুকসমান পানি পেরোতে না হয়।”

এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চন্দন কর বলেন, “মরদেহ দাফনের জন্য পানির মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিওটি আমিও দেখেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

ফালডাঙ্গীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—একটি সেতু। কারণ তাদের কাছে এটি শুধু যোগাযোগের অবকাঠামো নয়, এটি সম্মানজনক জীবনযাপন এবং মৃত্যুর পরও একজন মানুষকে মর্যাদার সঙ্গে শেষ বিদায় জানানোর অধিকার।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারের কোনো সংকট নেই দেশে , সমস্যা বিতরণে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বুকসমান পানি পেরিয়ে শেষ বিদায়

ছেলের কাঁধে মায়ের মরদেহ, একটি সেতুর অভাবে থামেনি গ্রামের কান্না

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:২১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

একজন সন্তানের জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর একটি—মায়ের মরদেহ কাঁধে নিয়ে শেষ বিদায় জানানো। আর সেই বিদায়ের পথ যদি হয় বুকসমান পানির মধ্য দিয়ে, তবে তা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বেদনার প্রতিচ্ছবি।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ফালডাঙ্গী গ্রামে এমনই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয়রা। টানা ভারি বর্ষণে তলিয়ে যাওয়া রাস্তায় বুকসমান পানি ভেঙে ছেলের কাঁধে মায়ের মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান ফালডাঙ্গী গ্রামের নুরুল ও মফিজউদ্দিনের ৮০ বছর বয়সী মা মফিজান বিবি। বিকেল ৩টায় জানাজার জন্য তাকে বকুয়া ইউনিয়নের রাজিউন রহমান হাফেজিয়া মাদরাসা মাঠে নেওয়া হয়। কিন্তু ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে কোনো সেতু না থাকায় স্বজনদের বুকসমান পানি পেরিয়ে মরদেহ বহন করতে হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় আড়াই কিলোমিটারের এই পথই কবরস্থানে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ রুট। বিকল্প পথে যেতে হলে আরও প্রায় ছয় কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়, যা মরদেহ নিয়ে অতিক্রম করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে এই দুর্ভোগের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতিটি নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে তা আর আলোর মুখ দেখে না।

তারা জানান, কয়েক দিন আগে নিজেদের অর্থ ও শ্রমে একটি অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করেছিলেন গ্রামের মানুষ। কিন্তু টানা মাত্র দুই দিনের বৃষ্টিতেই সেটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে আবারও আগের মতোই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এলাকা।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ এবং সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের ভাষায়, “অন্তত যেন আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের মরদেহ নিয়ে বুকসমান পানি পেরোতে না হয়।”

এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চন্দন কর বলেন, “মরদেহ দাফনের জন্য পানির মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিওটি আমিও দেখেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

ফালডাঙ্গীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—একটি সেতু। কারণ তাদের কাছে এটি শুধু যোগাযোগের অবকাঠামো নয়, এটি সম্মানজনক জীবনযাপন এবং মৃত্যুর পরও একজন মানুষকে মর্যাদার সঙ্গে শেষ বিদায় জানানোর অধিকার।