ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
আটঘরিয়ায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল পেট্রল পাম্প ও ওষুধের দোকান কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিল দুর্বৃত্তরা, ভিডিও ভাইরাল সারা বছর ধরেই চলবে মৃত ভোটার কর্তন কার্যক্রম-পরিকল্পনা ইসির মামলা তদন্তাধীন থাকলেও বেবিচকের ২ কর্মকর্তাকে দুদকের ‘ক্লিন সার্টিফিকেট’ ইবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, তদন্তে গঠন করা হলো চার সদস্যের উপ-কমিটি চরাঞ্চলের ইউনিয়ন নিয়ে ‘দিয়াড় উপজেলা’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে-এমপি নূরুল সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, চোরাই মোবাইলসহ আটক ৩ চাঁপাইনবাবগেঞ্জে এসএসসি উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা, মিষ্টিমুখে বরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে শাশুড়ির ঘর থেকে ২০ লাখ টাকা চুরি, জামাইসহ গ্রেপ্তার ২ গৌরনদীতে ভাড়া বাসায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ, হত্যা না আত্মহত্যা ?

প্রতীকী মরদেহ স্থাপন করে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে শিল্প-প্রতিবাদ

  • ইবি প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩১:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ১২৪৮ Time View

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পার হলেও বিচারকাজে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ব্যতিক্রমী শিল্প-প্রতিবাদের আয়োজন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুদীপ রায়। সাজিদের মরদেহ উদ্ধারের স্থানে প্রতীকী মরদেহ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন ও তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র প্রদর্শন করে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে এই শৈল্পিক প্রতিবাদ জানান তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন পুকুর এলাকায় বিভাগীয় অ্যাসাইনমেন্টের অংশ হিসেবে এই শিল্প-ইনস্টলেশনটি প্রদর্শিত হয়।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধারের স্থান পুকুরকেই শিল্পকর্মের মূল প্রেক্ষাপট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় রাখা হয়েছে একটি প্রতীকী মরদেহ। এর চারপাশে স্থাপিত লাল রঙের একাধিক প্রশ্নবোধক চিহ্ন বিচারহীনতা ও নানা প্রশ্নের প্রতীক হয়ে ফুটে ওঠে। পুকুরপাড়ের সিঁড়িতে সাজিয়ে রাখা হয় সাজিদের নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন প্রতীকী সামগ্রী—বই, খাতা, পোশাক, গামছা, জুতা ও বাদ্যযন্ত্র। শিল্পকর্মের পাশাপাশি বাজানো হয় সাজিদের নিজ কণ্ঠে গাওয়া গান। এক পাশে রাখা সাদা ক্যানভাসে লেখা ছিল, ‘১৭/৭/২৫ তারিখটা মনে আছে?’—যেখানে দর্শনার্থীরা নিজেদের অনুভূতি, শোক ও বিচার প্রত্যাশার কথা লিখে যান।
শিল্পী সুদীপ রায় জানান, এটি শুধু শোক প্রকাশের আয়োজন নয়, বরং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে একটি সরব প্রশ্ন তোলার প্রয়াস। তার ভাষায়, প্রশাসনের নীরবতা ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার মুখে শিল্পই হয়ে উঠতে পারে প্রতিবাদের কার্যকর ভাষা। তিনি মনে করেন, সাজিদ হত্যার বিচার না হওয়া কেবল একটি পরিবারের ব্যর্থতা নয়, বরং পুরো সমাজেরই ব্যর্থতা।
তিনি আরও জানান, পুকুরপাড়ে স্থাপিত প্রশ্নবোধক চিহ্নগুলো নিছক শিল্প-উপকরণ নয়, বরং এগুলো বিচারব্যবস্থার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অনুত্তরিত নানা প্রশ্নের প্রতীক—কেন তাকে হত্যা করা হলো, কবে বিচার হবে, আদৌ বিচার হবে কি না, এবং পরবর্তী শিকার আরও কেউ হবেন কি না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ৩ আগস্ট প্রকাশিত ভিসেরা প্রতিবেদনে জানানো হয়, শ্বাসরোধ করেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ইবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আটঘরিয়ায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল পেট্রল পাম্প ও ওষুধের দোকান

প্রতীকী মরদেহ স্থাপন করে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে শিল্প-প্রতিবাদ

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩১:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পার হলেও বিচারকাজে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ব্যতিক্রমী শিল্প-প্রতিবাদের আয়োজন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুদীপ রায়। সাজিদের মরদেহ উদ্ধারের স্থানে প্রতীকী মরদেহ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন ও তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র প্রদর্শন করে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে এই শৈল্পিক প্রতিবাদ জানান তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন পুকুর এলাকায় বিভাগীয় অ্যাসাইনমেন্টের অংশ হিসেবে এই শিল্প-ইনস্টলেশনটি প্রদর্শিত হয়।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধারের স্থান পুকুরকেই শিল্পকর্মের মূল প্রেক্ষাপট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় রাখা হয়েছে একটি প্রতীকী মরদেহ। এর চারপাশে স্থাপিত লাল রঙের একাধিক প্রশ্নবোধক চিহ্ন বিচারহীনতা ও নানা প্রশ্নের প্রতীক হয়ে ফুটে ওঠে। পুকুরপাড়ের সিঁড়িতে সাজিয়ে রাখা হয় সাজিদের নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন প্রতীকী সামগ্রী—বই, খাতা, পোশাক, গামছা, জুতা ও বাদ্যযন্ত্র। শিল্পকর্মের পাশাপাশি বাজানো হয় সাজিদের নিজ কণ্ঠে গাওয়া গান। এক পাশে রাখা সাদা ক্যানভাসে লেখা ছিল, ‘১৭/৭/২৫ তারিখটা মনে আছে?’—যেখানে দর্শনার্থীরা নিজেদের অনুভূতি, শোক ও বিচার প্রত্যাশার কথা লিখে যান।
শিল্পী সুদীপ রায় জানান, এটি শুধু শোক প্রকাশের আয়োজন নয়, বরং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে একটি সরব প্রশ্ন তোলার প্রয়াস। তার ভাষায়, প্রশাসনের নীরবতা ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার মুখে শিল্পই হয়ে উঠতে পারে প্রতিবাদের কার্যকর ভাষা। তিনি মনে করেন, সাজিদ হত্যার বিচার না হওয়া কেবল একটি পরিবারের ব্যর্থতা নয়, বরং পুরো সমাজেরই ব্যর্থতা।
তিনি আরও জানান, পুকুরপাড়ে স্থাপিত প্রশ্নবোধক চিহ্নগুলো নিছক শিল্প-উপকরণ নয়, বরং এগুলো বিচারব্যবস্থার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অনুত্তরিত নানা প্রশ্নের প্রতীক—কেন তাকে হত্যা করা হলো, কবে বিচার হবে, আদৌ বিচার হবে কি না, এবং পরবর্তী শিকার আরও কেউ হবেন কি না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ৩ আগস্ট প্রকাশিত ভিসেরা প্রতিবেদনে জানানো হয়, শ্বাসরোধ করেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ইবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি।