
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই সময়ে উপজেলা সমাজসেবা ও সমবায় কার্যালয়েও তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বিকেল ৪টায় অফিস সময় শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ইউএনও কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল সোমবার প্রকাশ করা হয়। ফলাফল প্রকাশের পর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
তালা দেওয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে ছিলেন না বলে জানা গেছে। এ সময় অন্য কর্মকর্তাদেরও কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাচোল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল সোমবার প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ওই নিয়োগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের কর্মীরা দায়িত্ব পেলে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি এ নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হতে পারে।”
এ কারণে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন এবং পরে ইউএনও কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা দেন বলে জানান তিনি। একই সময়ে সমাজসেবা ও সমবায় কার্যালয়েও তালা দেওয়া হয়।
আবু তাহের খোকন আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে সন্ধ্যায় দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, দুপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলন করে ইউএনও কার্যালয়ে তালা দিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর তারা সেখান থেকে চলে যান। পরে তালা খোলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং কারা কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়েছেন, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 






















