
চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা কিংবা হাসপাতালে দুর্ব্যবহারের শিকার হলেও অনেক রোগী ও তাদের স্বজন জানেন না কোথায় অভিযোগ করতে হবে বা কীভাবে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। এমন ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ, দিকনির্দেশনা ও ফলোআপ সহায়তা দিতে যাত্রা শুরু করেছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন’।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
আয়োজকরা জানান, চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ হলে কোথায় এবং কীভাবে তা জানাতে হবে, কোন ধরনের চিকিৎসা নথি ও প্রমাণ সংরক্ষণ করা জরুরি এবং প্রয়োজনের সময় আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কোথা থেকে পাওয়া যাবে—এসব বিষয়ে ভুক্তভোগীদের সহজভাবে সহযোগিতা করবে প্ল্যাটফর্মটি।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারও জরুরি। স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনাকে তিনি এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দেশে কার্যকর আইনি কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। এ ধরনের সমস্যা সমাধানে চিকিৎসক ও হাসপাতালগুলোকে সম্পৃক্ত করে ল’ কমিশন গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোর সেবার মান, বিভিন্ন ঘাটতি এবং লাইসেন্সের শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, সেদিকেও সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও নাগরিক আস্থার ঘাটতি রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার আশায় অনেকেই বিদেশমুখী হচ্ছেন। তবে অধিকাংশ মানুষকে দেশের বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, দেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর যেমন নানা ধরনের চাপ রয়েছে, তেমনি চিকিৎসায় অবহেলা বা দুর্ব্যবহারের অভিজ্ঞতার তুলনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সংখ্যা কম। অনেক রোগী ও স্বজন জানেন না কোথায় অভিযোগ করতে হবে, কী ধরনের নথি সংরক্ষণ করা উচিত এবং অভিযোগ করার পর সেটির অগ্রগতি কীভাবে জানা যাবে। এই তথ্য ও সহায়তার ঘাটতি কমানোই প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
‘স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন’-এর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নিভীন রেজা ও মাজহারুল ইসলাম।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, বরং প্রতিটি অভিযোগ ন্যায্যভাবে শোনা ও যাচাই করা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ দেখানো এবং ভবিষ্যতে রোগীর নিরাপত্তা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করবে প্ল্যাটফর্মটি।
একই সঙ্গে রোগীর অধিকার রক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অধিকার ডেস্কঃ 
























